চিনের নতুন ফ্লু ভাইরাস থেকে মহামারির আশঙ্কা

বেজিং : একে করোনায় রক্ষা নেই, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দোসর। চিনা মুলুকে ফের এক নতুন ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে, যেটাও মহামারি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। টানা ৮ বছর গবেষণার পর জি-ফোর নামে এই বিপজ্জনক ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে।

মার্কিন বিজ্ঞান জার্নাল প্রোসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস (পিএনএএস)-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, জি-৪ নামের এই সোয়াইন ফ্লু জেনেটিকভাবে এইচ১এন১ স্ট্রেন থেকে এসেছে, যা থেকে ২০০৯-এ মহামারি ছড়িয়েছিল। চিনা গবেষকদের মতে, মানুষকে সংক্রামিত করার জোর ক্ষমতা রয়েছে এই সোয়াইন ফ্লুয়ে। মানুষের শরীরে এরা অভিযোজনের সাহায্যে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে যায়। ফলে এক শরীর থেকে আর এক শরীরে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে। এই জি-ফোর ভাইরাস কেন বিপজ্জনক, তা ব্যাখ্যা করে গবেষকরা বলেছেন, তিন ধরনের স্ট্রেনের সংমিশ্রণে তৈরি এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা মানুষের শরীরে নেই।

নতুন মারণ ভাইরাসের খোঁজ মেলার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা রিপোর্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। প্রাথমিকভাবে তারা মনে করছে, নতুন ফ্লু ভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক থাকার কারণ রয়েছে। ওই নতুন ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে এ/এইচ১এন১পিডিএম০৯। চিনের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক লিউ জিনহুয়ার নেতৃত্বাধীন এক গবেষক দল ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চিনের দশটি প্রদেশ থেকে প্রায় ৩০,০০০ শুয়োরের শ্লেষ্মা বা কফ সংগ্রহ করে। সংগ্রহ করে পশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্বাসকষ্টে অসুস্থ ১,০০০ শুয়োরের লালা। এদের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ১৭৯টি সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস খুঁজে পান গবেষকরা, যার মধ্যে জি-ফোর ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সংখ্যাগুরু ছিল। এরপর বেজি ও অন্য প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করে দেখা হয়। এদের শরীরেও মানুষের মতো প্রভাব পড়ে ফ্লু-এর।

গবেষকরা জানিয়েছেন, জি-ফোর-এর প্রতিক্রিয়া বেজি ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরে অন্য যে কোনও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের চেয়ে বেশি। এক প্রাণী থেকে আর এক প্রাণীর শরীরে, এমনকি মানুষের শরীরেও দ্রুত ছড়িয়ে যায়। কিন্তু মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাস ছড়ায় কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান জেমস উডের পরামর্শ, পশুখামারের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ওপর যেন নজর রাখা হয়। ইতিমধ্যে চিনে শুয়োরের খোঁয়াড়ে কর্মরত ১০ শতাংশ মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।