আলিপুরদুয়ারে এবার হয়তো প্রার্থী ঋতব্রত

233

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : এক সময় বাম ছাত্র-যুব সংগঠনের লড়াকু নেতা ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রায় দেড় বছর আগে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন তিনি। এখন আলিপুরদুয়ারে আট মাস হল পড়ে রয়েছেন দলের হাল ফেরাতে।

তৃণমূলে যোগদানের পর তাঁর সঙ্গে সিপিএমের নেতা-কর্মীদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়নি। বরং বামেদের ভোট যাতে রামে না পড়ে, তার জন্য তলে তলে ঋতব্রত কাজ করছেন। স্বাভাবিকভাবেই গত লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ভোট বিজেপিতে গেলেও সামনের বিধানসভা ভোটে তাদের ভোট তৃণমূলের দিকে পড়বে বলে খোদ প্রাক্তন সাংসদের ধারণা। তৃণমূল সূত্রে খবর, আলিপুরদুয়ারে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে যেভাবে দলের কাজ করছেন প্রাক্তন সিপিএম নেতা, তাতে খুশি খোদ দলনেত্রী মমতা। স্বাভাবিকভাবেই অনেকে মনে করছেন, তিনি আলিপুরদুয়ার বিধানসভায় প্রার্থীও হতে পারেন। আপনি কী বলেন? ঋতব্রত উত্তর দেন, আমি দলের সৈনিক। নেত্রী আমাকে আলিপুরদুয়ারের সংগঠন শক্তিশালীর কাজ করতে পাঠিয়েছেন। বিধানসভা পর্যন্ত এ কাজ করব। নেত্রী নির্দেশ দিলে এখান থেকে চলে যাব। তাই প্রার্থী হওয়া নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই।

- Advertisement -

তৃণমূলের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক বলছিলেন, নেত্রী আমাকে আলিপুরদুয়ারে বুথস্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পাঠিয়েছেন। আমি বুথে বুথে গিয়ে সেই কাজই করছি। তৃণমূল সরকারের উন্নয়ন দেখে বাম-কংগ্রেস সহ বিজেপির নেতা-কর্মীরাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমাদের বিশ্বাস, এখন আলিপুরদুয়ারের দলের যে অবস্থা তাতে বিধানসভা ভোটে আমরা ব্যাপক সাফল্য পাব।

অবশ্যই ঋতব্রত আলিপুরদুয়ারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে দলে একটা টালমাটাল অবস্থা ছিল। গত লোকসভার পর দলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী হলেও দিন-দিন কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল। এমনকি জেলা কমিটি, ব্লক কমিটি ও অঞ্চল কমিটিগুলিও ছিল নিষ্ক্রিয়। কিন্তু ২০২০ সালের ৭ জুলাই ঋতব্রত দলের আলিপুরদুয়ারের দায়িত্ব নেওয়ার পরে ঘুরতে থাকে দলের অবস্থা। তবে জেলা কমিটি ঘোষণার পরেও দু-একজন বিদ্রোহী নেতা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। এই অবস্থায় ফের দলের অবস্থা সামলাতে হাল ধরেন ঋতব্রত। জেলা ও ব্লক কমিটির কার্যকর্তাদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, প্রতি মাসে দশ দিন অন্তর অন্তর বৈঠক করা হবে। দশ দিনের কর্মসূচি পালন করে ফের বৈঠকে আগামী দশ দিনের কর্মসূচি ঠিক করা হচ্ছে। পাশাপাশি অঞ্চলগুলিকে সক্রিয় করে ধারাবাহিকভাবে করা হচ্ছে অঞ্চলের কর্মী সম্মেলন। এছাড়াও ঋতব্রতর মস্তিষ্কপ্রসূত দিদির ডায়ারি নিয়ে কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।

বুথস্তরে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে খোলা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। মহিলা নেত্রীদেরকেও উজ্জীবিত করতে তাঁদের নিয়ে টিম তৈরি করা হয়েছে। ওই টিম মহিলাদের একেবারে হেঁশেলে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। ঋতব্রত বলেন, জেলার সাধারণ এলাকা বাদে চা বাগান এলাকাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্ধ বাগান খোলা থেকে চা সুন্দরী, জয় জহার, জমির পাট্টা, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, আদিবাসীদের জমির পাট্টা সহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ এতদিন প্রকল্পগুলো নিয়ে তেমন একটা প্রচার হয়নি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রাজ্য সরকার যা যা উন্নয়নমূলক কাজ করেছে তা প্রচার করা হবে। এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চা বাগানের ভূমিপুত্রদের। কৌতূহল একটাই। সিপিএমের প্রাক্তন নেতা কি তৃণমূলের টিকিটে বিধানসভায় দাঁড়াবেন?