তিস্তার পাড়ভাঙনে আতঙ্কে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা

185

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: ফের তিস্তার পাড়ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে মেখলিগঞ্জ ব্লকের নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ৭২ নিজতরফ গ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয়রা অবশ্য জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গ্রামের তিন নম্বর পিলারের কাছ থেকে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে অনেকটাই বসতি এলাকার দিকে চলে এসেছে। সম্প্রতি সেচ দপ্তরের তরফে বালির বস্তা এবং পাথর ফেলে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করলেও সেটা মোটেই যথেষ্ট নয়। নদীতে জল আরও বাড়লে যেকোনোও সময় ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা অখিল সরকার, সঞ্জয় রায়, মন্টু বিশ্বাস প্রমুখরা জানিয়েছেন, নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে গ্রাম বাঁচানোর চিন্তায় তাঁদের রাতের ঘুম উধাও হয়ে গিয়েছে। গতকাল বিকেল থেকে নদীতে নতুন করে পাড়ভাঙন শুরু হওয়ার বিষয়টি তাঁদের আরও ভাবিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি সেচ দপ্তর সামান্য উদ্যোগ নিয়েছে। সেটা দিয়ে এই ভাঙন আটকানো সম্ভব নয় বলেও তাঁরা মনে করছেন। গ্রাম বাঁচাতে তাই গোটা এলাকায় বোল্ডার ফেলে স্থায়ী পাড়বাঁধ নির্মাণের দাবি করেছেন এলাকাবাসীরা।

- Advertisement -

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নিতাই সরকার বলেন, ‘দিন কয়েক আগে নদীতে জল বাড়ার সময়েই নদী ব্যাপকহারে ভাঙতে শুরু করেছে। দিশেহারা হয়ে গ্রামবাসীরা নিজেরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নেমে বাঁশ ও বালির বস্তা ফেলে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করেছেন। এই অবস্থায় নদী ফের ভাঙতে শুরু করায় এলাকার মানুষের চিন্তা বেড়ে গিয়েছে।’ তবে এই গ্রামের ভাঙন পরিস্থিতির কথা প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুনীল রায়।

যদিও ওই এলাকার নদীর পাড়ভাঙন পরিস্থিতির বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তাঁরাও বিষয়টি দেখছেন বলে জানিয়েছেন মেখলিগঞ্জের মহকুমা শাসক রামকুমার তামাং।

এ বিষয়ে শুক্রবার সেচ দপ্তরের ময়নাগুড়ির আধিকারিক সমীর বর্মনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।