বাঁধ দিয়ে নদী দখল জমি মাফিয়াদের

358

বাগডোগরা : হুলিয়া নদীর গতিপথ আটকে নদীর মধ্যে বাঁধ দিয়ে জমি তৈরি করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জমির কারবারিদের বিরুদ্ধে। বাগডোগরা থানার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের হেটমুড়ি সিংহীঝোরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈরাগিনীজোতে এই ঘটনা ঘটছে। প্রায় তিন মাস ধরে দিনরাত নদী ভরাট চললেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। অভিযোগ, দালালচক্রের লোকজন এই অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় গ্রামের বাসিন্দারাও ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। বৈরাগিনীজোতে দেখা যাচ্ছে, হুলিয়া নদীর উত্তর দিকে আর্থমুভার দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ বানিয়ে নদীর জল আটকে নদীর বুকে সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে দেওযাল তোলা হচ্ছে। স্থানীয বাসিন্দারা বলেন, লকডাউনে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নদী ভরাটের কাজ করছেন শিবমন্দির এলাকার দুই জমি ব্যবসায়ী। তাঁরা গ্রামের এক ব্যক্তির জমি কিনে নদীর মধ্যে বাঁধ দিয়ে বিক্রি করার জন্য নদী দখল করে নিচ্ছেন। যে পরিমাণ জমি কিনেছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ নদী দখল করছেন।

স্থানীয বাসিন্দা সঞ্জীব সিংহ বলেন, ‘সারা দিনরাত আর্থমুভার দিযে কাজ চলছে। শব্দে আমরা রাতে ঘুমাতে পারি না। আমরা শুনেছি, শিবমন্দির এলাকার দুজন জমির কারবারি জমি কিনেছেন। কিন্তু নদী কেন ঘুরিয়ে দিচ্ছে তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।’ হেটমুড়ি সিংহীঝোরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেওয়ান লিম্বু বলেন, ‘নদী ভরাটের বিষযটি আমার জানা নেই। ওখানে গিয়ে দেখে বলতে পারব।’ ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার বলেন, ‘নদীতে বাঁধ বা দেওয়াল দেওয়ার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। সব বিষয় আমার দেখার কথা নয়। নদী দখল করলে সেচ দপ্তরের দেখার বিষয়। তবুও আমি খোঁজ নেব।’ ফাঁসিদেওযা ব্লকের ভূমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিক ললিত থাপা বলেন, ‘ওই এলাকা ফাঁসিদেওযা ব্লক এবং নকশালবাড়ি ব্লকের সীমান্ত এলাকা। তবুও আমি খোঁজ নেব।’

- Advertisement -

যে ব্যক্তি ওখানে নদী ভরাট করছেন বলে অভিযোগ তাঁদের একজন বলেন, ‘ওখানে আমরা ছয় বিঘা খতিয়ান জমি কিনেছি। কিছু জমি নদীর মধ্যে রয়েছে। সেই জমি উদ্ধার করার জন্য বাঁধ দিচ্ছি। প্রতিদিন ৩০ জন শ্রমিক ওখানে কাজ করছেন। আর্থমুভার দিয়ে কাজ করছি। ১৪ ফুট প্রশস্ত তিনটি রাস্তা হবে। বিদ্যুতের ব্যবস্থা আমরাই করে দেব। ১৫ লক্ষ টাকা বিঘা দরে জমি বিক্রি করব।’ নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ করে বাঁধ ও দেওয়াল দেওয়া অবৈধ, তবুও কেন এসব করছেন? এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অভিযুক্ত উলটে বলেন, ‘জমি কিনতে চাইলে কিনতে পারেন। দামের সমস্যা হবে না।’

তথ্য ও ছবি- খোকন সাহা