নয়ারহাট : কিছুদিন আগে  জলের তোড়ে নেন্দা নদীর বাঁশের সাঁকোটির একাংশ ভেসে যায়। ফলে নদী পারাপারের ক্ষেত্রে বিস্তর অসুবিধায় পড়েন  মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের কুর্শামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত উত্তর মহিষচরু, দলুয়ারপাড় সহ পাশ্ববর্তী এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। বাধ্য হয়ে তাঁদের অনেকেই জল ভেঙে যাতায়াত করছেন। অনেকে আবার ঘুরপথে যাতায়াত করছেন। তবু সাঁকো সংস্কারে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই। এনিয়ে প্রশাসন ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা দেবেন্দ্র বর্মন, নির্মোহন অধিকারী, বীরেন বর্মন, হরচন্দ্র বর্মন ও অমূল্য বর্মন জানান, সাঁকোর একাংশ ভেসে যাওয়ায় তাঁরা চরম অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। যন্ত্রনার শিকার এলাকার পড়ুয়ারাও। যাতায়াতের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকার কৃষকদের। সাঁকোর একাংশ ভেসে যাওয়ার দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও প্রশাসন কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ খোঁজ খবর নেয়নি বলে অভিযোগ।  বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রশাসনের উপর আর ভরসা রাখতে পারছেন না তাঁরা। কয়েকদিনের মধ্যে নিজেরাই সাঁকো সংস্কারে উদ্যোগ নেবেন।

নেন্দা নদীর এই সাঁকোর জায়গায় পাকা সেতুর দাবিও অনেক পুরোনো। ৪০ বছর ধরে সেতুর দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন সকলে। নানা মহলে লিখিত আবেদনও জানানো হয়েছে। এমনকি কয়েকবার ভোট বয়কট করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়রা জানান, সেতু তৈরির আশ্বাসও মিলেছিল জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে। এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছিল। মাপজোখও হয়েছিল । কিন্তু  সেতু তৈরি দূরের কথা, কয়েক বছর ধরে সাঁকো সংস্কারেও উদ্যোগ নিচ্ছে না গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।

এলাকার জেলা পরিষদ সদস্য ধনীরাম অধিকারী অবশ্য জানিয়েছিলেন, সাঁকোর জায়গায়  সেতু তৈরির বিষয়ে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই তিনি বিভিন্ন মহলের  দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

ছবি- নেন্দা নদীর ভাঙা সাঁকো।

ছবি ও তথ্য- বুল নমোদাস