মুজনাই পারাপারে ভরসা নৌকা ও থার্মোকলের ভেলা

157

রাঙ্গালিবাজনা: মুজনাই নদীর প্রবল জলস্রোতের তোড়ে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মুজনাই নদীর সাঁকোগুলি ভেসে গিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে এলাকার হাজার হাজার মানুষ। নদী পারাপারে এখন মানুষের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকা। বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকায় বিপজ্জনকভাবে ছোট ছোট নৌকা এমনকি থার্মোকলের ভেলায় চেপেও খরস্রোতা মুজনাই নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছে মাদারিহাট ও ফালাকাটা ব্লকের বহু মানুষ। কিন্তু, এভাবে নদী পারাপারে যে কোনও মুহূর্তেই দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকছে বলে আশঙ্কা অনেকেরই।

দেওগাঁওয়ের সঙ্গে জটেশ্বরের দু’টি এবং মাদারিহাটের রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতকে আড়াআড়িভাবে ভাগ করেছে উত্তরে দক্ষিণে প্রবাহিত মুজনাই নদী। নদীর ওপর একমাত্র সেতুটি আছে বঙ্কিমের ঘাটে। কিন্তু লকিয়তউল্লাহ, আজিজার, সাধন, গঙ্গামঙ্গল, সফর সহ পাঁচ-ছ’টি ঘাটে আজও নদী পারাপারে বর্ষায় ভরসা নৌকা ও অন্য মরশুমে বাঁশের সাঁকো। প্রতি বর্ষায় নদীতে জল বাড়লে ভেসে যায় সাঁকো। তখন ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। এবার বর্ষাতেও ব্যতিক্রম হয়নি। সবচেয়ে বিপজ্জনকভাবে নদী পারাপার চলছে নবনগরের সরকারপাড়া এলাকায়। সেখানে থার্মোকলের ভেলায় নদী পারাপার চলছে।

- Advertisement -

নবনগর সন্নিহিত এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, নদী পারাপারের জন্য সেতু দরকার। তা তৈরি করা সম্ভব না হলে কমপক্ষে তাঁদের জন্য একটা নৌকার ব্যবস্থা করা উচিত জনপ্রতিনিধিদের। নৌকা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থার্মোকলের ভেলায় নদী পার হতে হচ্ছে তাঁদের। দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রহিফুল আলমের বক্তব্য, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এত বড় সেতু গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষে তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই প্রয়াত অনিল অধিকারী বিধায়ক থাকাকালীন তাঁর দ্বারস্থ হয়েছিল গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। তিনি উদ্যোগও নেন। কিন্তু তাঁর অকালপ্রয়াণে বিষয়টি ধাক্কা খায়। ফালাকাটার নয়া বিধায়ক এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।