সেতু থাকলেও নদী হারিয়ে গিয়েছে, এখন সেখানে চাষের জমি

472

জলপাইগুড়ি :  সামনে গেলে ঝা চকচকে সেতু দেখা যায়। কিন্তু যার জন্য সেতু, সেই নদী বা ঝোরা হারিয়ে গিয়েছে। নদীর মরা স্রোতের পাশে  অবাধে চাষাবাদ চলছে।  জলপাইগুড়ি -হলদিবাড়ি রাজ্য সড়কের পাশে বুড়ি তিস্তা, কলাই বিছেপাড়া সেতুর নিচে কলাই নদী বা হলদিবাড়ির জোড়াপুলের নীচে সোতা  নদীর ছবিটা ঠিক এমনই। যদিও মৎস্য এবং সেচ দপ্তরের উত্তরবঙ্গ অফিসের পদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, নদী উদ্ধারে তাঁরা কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে।

জলপাইগুড়ি শহর থেকে কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি যেতে গেলে রাজ্য সড়কের পাশে এখন এই তিনটি নদীকে খুঁজে পাওয়াই কঠিন।  উত্তর হলদিবাড়ি পঞ্চায়েতের চামড়া গুদামের সামনেই সোতা নদীর উপর  জোড়াপুল।এখানে সোতা নদীর জল কিছুটা দূরে দেখা গেলেও ধান চাষ হচ্ছে নদীবক্ষ জুড়ে।

- Advertisement -

জলপাইগুড়ি জেলার  ঐতিহাসিক বুড়ি তিস্তা নদী এখন মৃতপ্রায়। বুড়ি তিস্তা নদীর সেতুটি ঘুঘুডাঙার পরেই। সামান্য জল থাকলেও নদীর বুকে চাষাবাদ কয়েক বছর ধরেই চলছে। ঘুঘুডাঙার পরেই কলাই নদী। এই নদীর উপর কলাই বিছে সেতু। এখানেও নদী বক্ষে চলছে রমরমিয়ে চাষাবাদ।

নদীবক্ষে কৃষিকাজ করেই সংসার চলে সুবল বর্মন, দিলীপ রায়ের মতো হাজার হাজার মানুষের। তাঁরা জানান,  নদী তীরে বহু বছর ধরেই চাষাবাস করা হচ্ছে। নদীতে তো বর্ষার সময় ছাড়া জল থাকে না। অন্য সময় নদীর বুকে চাষ করা বয়।  সেচের সুবিধা হয়, মাটিও খুব উর্বর।

সেচ দপ্তরের উত্তর-পুর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ধ্রুবজ্যোতি  রায় জানান, ‘নদীর তীরে উর্বর মাটি ও জলের সহজলভ্যতার জন্য চাষাবাস উত্তরবঙ্গ জুড়েই বহু নদীতে দেখা যায়। অনেকে তো নদীর পথ আটকে  বাড়ি তৈরি  করেছে। আমরা ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গে কয়েকটি নদী পুনুরুদ্ধার করেছি। যেমন আলিপুরদুয়ারের শিবকাটা, কোচবিহারের ঘোরামারা, আলিপুরদুয়ারের জোড়াই। জলপাইগুড়ি – হলদিবাড়ি সড়কের পাশে নদীগুলিতে আমরা সমীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে মৎস্য দপ্তরের শিলিগুড়িস্থিত অফিসের অতিরিক্ত অধিকর্তা আর এফ লেপচা জানান, ‘জলাভুমি সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আমরা কিছু ব্যবস্থা নিতে পারি। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ লাগবে। তাছাড়া  নদীতে চাষবাস করাতে কীটনাশক ব্যবহারে নদীর জলের বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হলেও ব্যবস্থা নিতে পারি। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।’

কৃষি দপ্তরের জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ি অফিসের সহকারি অধিকর্তা ( শস্য রক্ষা)   প্রিয়নাথ দাস জানান, শুধু যে কৃষিকাজ করলেই নদীর চিত্র বদলায় তা নয়।নদীবক্ষে কৃষিকাজ করে কীটনাষক ব্যবহার করাতে তা জলের ক্ষতি করলেই আমরা অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেবো।

ছবি- জলপাইগুড়ি -হলদিবাড়ি সড়কের পাশে বুড়ি তিস্তাতে চাষাবাদ চলছে।

তথ্য ও ছবি – পূর্ণেন্দু সরকার