নদী ভাঙনের মুখে ৩ স্কুল

353

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: নদী ভাঙনের মুখে তিনটি প্রাথমিক স্কুল। রায়গঞ্জ শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ভিটিহার, নয়াটুলি ও রহমতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কার্যত দখল নিয়েছে নাগর নদী, জল ঢুকে পড়েছে স্কুলঘরে। নদীর পাড়ে স্কুল তিনটির ঠিকানা বদল না হলে থমকে যাবে কচিকাঁচাদের পড়াশোনা। ফলে অজানা আশঙ্কায় দিন গোনা শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রায়গঞ্জ ব্লকের ৯ নং গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ওই তিনটি স্কুল অবস্থিত। প্রায় ২ কিলোমিটার পথ হাঁটু পর্যন্ত কাদায় পা ডুবিয়ে, জুতো আর বই-খাতা মাথায় নিয়ে নদীর পাড়ের স্কুলগুলিতে পৌঁছোতে হয় পড়ুয়াদের। ভিটিহার স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুস্তি বলেন, বর্ষার সময় স্কুলঘরে নাগর নদীর জল ঢুকে যায় বলে প্রায় এক মাস ক্লাস করা যায় না। ফলে চরম দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় পড়ুয়া থেকে শিক্ষকদের। নয়াটুলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অরুন দাসের বক্তব্য, ‘নিরাপদ জায়গায় স্কুল ঘর তৈরির জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু উপযুক্ত জায়গা পাওয়া যায়নি।’ প্রধান শিক্ষক জানান, ১৬১ জন ছাত্রছাত্রীর মিড-ডে-মিল রান্না করার ঘর নেই। নদীর ধারে একফালি জায়গায় চলছে বাচ্চাদের খাবার তৈরি। স্কুলে পাঁচ জন স্থায়ী ও দু’জন পার্শ্ব শিক্ষক রয়েছেন। পর্যাপ্ত জমির অভাবে বর্তমানে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ুয়ারা।

- Advertisement -

নয়াটুলির ওপারে দুপদুয়ার গ্রাম। দুই গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছেছ নাগর নদী। রহমতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘নাগর নদীর ভাঙনের মুখে স্কুল, এই কথা স্কুল পরিদর্শকে বলা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ স্কুলে দু’জন স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। এই বিষয়ে রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা জানান, আজ স্কুলগুলি পরিদর্শন করে সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।