শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : কয়েদিন আগের প্রবল বৃষ্টিতে নাগরাকাটার খেরকাটা গ্রামে ডায়না নদীর প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা পাড়বাঁধ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। ক্রমশ পশ্চিম দিকে সরতে থাকা ডায়না নদী এখন এলাকাবাসীর কাছে আতঙ্কের অপর নাম। এই পরিস্থিতিতে ফের ভারী বৃষ্টি নামলে ওই গ্রামের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পাড়বাঁধ মেরামতির ব্যাপারে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করুক। পাঁচ হাজার বাসিন্দার পাশাপাশি নদীর পাশে থাকা কয়েশো হেক্টর এলাকার ডায়না জঙ্গলের ভবিষ্যত্ নিয়ে উদ্বিগ্ন বনকর্তারাও। বন দপ্তরের ডায়না রেঞ্জের রেঞ্জার শুভেন্দু দাস বলেন, ইতিমধ্যে জঙ্গলের অনেক গাছ নদীতে ভেসে গিয়েছে। ওই জায়গার পরিস্থিতি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

নাগরাকাটা ব্লকের আংরাভাসা-১ গ্রাম পঞ্চায়েছের অন্তর্গত খেরকাটা গ্রাম বরাবরই বন্যাকবলিত। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডায়না নদীর ভাঙনে প্রতি বছরই বিঘার পর বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে যায়। ডায়না নদীর পাশেই রয়েছে সেন্ট্রাল ডায়না জঙ্গল। তারপরেই শুরু মানুষের বসবাস। কয়েক দিন আগের বৃষ্টিতে টিকেনপুর এলাকায় বাঁধটি পুরোপুরিভাবে ভেঙে গিয়েছে। জঙ্গল ও গ্রাম বাঁচাতে সেখানে চার বছর আগে এক কোটিরও বেশি টাকা খরচ করে কয়েক কিলোমিটার লম্বা বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। তবে এবার বর্ষার শুরুতেই নদী যেভাবে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, তা দেখে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাত জাগছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় ও বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গলের ধারে যে জায়গায় বাঁধটি ভেঙেছে, সেটি  মূলত হাতিদের ডেরা। হাতির দল দিনেরবেলা ওই জঙ্গলে থাকে। সন্ধে নামতেই ডায়না নদী পেরিয়ে আপার কলাবাড়ি, হৃদয়পুর, ঘাসমারি গোটবস্তি, ধূমপাড়া এলাকায় হাতির দল হানা দেয়। ওই বাঁধটি ভাঙায় এখন হাতিরাও সমস্যায় পড়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে প্রচুর গাছ নদীর স্রোতে ভেসে গিয়েছে। তার ওপর রক্ষাকবচ ওই বাঁধের একটা বড়ো অংশের অস্তিত্বই না থাকায় শুরু হয়েছে ভাঙন। প্রায় প্রতিদিনই একটা-দুটো করে গাছ নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দশাই ওরাওঁ বলেন, নদীটি যদি ফের কয়েকদিন আগের মতো ভযংকর রূপ নেয়, তাহলে জঙ্গল ভাসিয়ে খেরকাটায় ঢুকে যাবে। আমরা সারাক্ষণ আতঙ্কে রয়েছি। প্রশাসনের উচিত বাঁধ মেরামতির কাজ দ্রুত শুরু করা। ইন্দ্রবাহাদুর ছেত্রী নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আকাশের দিকে তাকিয়ে আমাদের দিন কাটছে। একটু মেঘ করলে গোটা গ্রাম ভয়ে সিঁটিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু না করলে ডায়নার জঙ্গল সহ খেরকাটার অস্তিত্ব আর থাকবে না।

বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকরাও। এ ব্যাপারে বানারহাট মহকুমার সেচ আধিকারিক সুব্রত শূর বলেন, ওই বাঁধের অনেকটা অংশ ভেঙে গিয়েছে। সমস্যার সমাধানে আমাদের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।