কুমলাইয়ের ভাঙনে অস্তিত্বের সংকটে থাপা বস্তি

235

কৌশিক দাস, বড়দিঘি : কুমলাই নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে মাল ব্লকের তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের থাপা বস্তির কয়েশো পরিবার অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, অবিলম্বে বাঁধ তৈরি করা না হলে পরের বর্ষায় গোটা গ্রাম নদীর গ্রাসে তলিয়ে যাবে।  ভাঙন রুখতে ২০১৫ সাল থেকে সেচ দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। ভাঙনের ফলে ইতিমধ্যেই অনেকটা অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। অবিলম্বে ভাঙন রুখতে বাঁধ নির্মাণের দাবি উঠেছে। দাবি পূরণ না হলে গ্রামবাসীরা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

নদীতে জল বাড়লে ঘুম উড়ে যায় কুমলাই নদীসংলগ্ন থাপা বস্তির পরিবারগুলির। তাঁরা বলেন, আগে নদী এত কাছে ছিল না। বিগত ৫ বছরে ভাঙনের জন্য নদী ১০০ মিটার এগিয়ে এসেছে। এখন নদীর জল কম থাকলেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কয়েক বছর আগে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে নদীপাড়ের কিছুটা অংশজুড়ে বোল্ডারের জালি দিয়ে ভাঙন আটকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে তা যথেষ্ট নয়। বোল্ডার জালিও ভাঙনে নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে থাপা বস্তিতে বিধায়কের উপস্থিতিতে দিদিকে বলো কর্মসূচি হয়েছিল। সেসময়ে গ্রামবাসীরা ভাঙনের সমস্যাটি বিধায়ককেও জানিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা হাসনাদ আলি বলেন, নদীতে জল বাড়লেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। নদী পাড় ভাঙতে ভাঙতে অনেক এগিয়ে এসেছে। ভরা বর্ষায় নদীর জল বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ইতিমধ্যে চাষের জমি সহ বহু গাছপালা নদীর গ্রাসে চলে গিয়েছে। অপর এক গ্রামবাসী শফিকুল ইসলাম বলেন, সামান্য এই ভিটেটাই আমাদের ভরসা। নদী সব গিলে নিলে পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াব? ভোটের সময় সব দলের নেতারা এসে গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। সেচ দপ্তরের উপর তীব্র বিষোদ্গার করে পঞ্চায়েত সদস্য নাজিরা আখতার বানু বলেন, বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রশাসন এবং সেচ দপ্তরে জানানো হলেও এই সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। সেচ দপ্তরের ভূমিকা হতাশাজনক। গ্রামবাসীদের নিয়ে আন্দোলনে নামা ছাড়া আর কোনো গতি নেই। তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মিনারা পারভিন বলেন, থাপা বস্তিতে নদীভাঙন বিপজ্জনক আকার নিয়েছে। আমরা এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সামর্থ্য গ্রাম পঞ্চায়েতের নেই। সেচ দপ্তরকে জানানো সত্ত্বেও কোনো লাভ হচ্ছে না। মালের বিধায়ক বুলু চিকবড়াইক বলেন, আমি সেচ দপ্তরের সঙ্গে সমস্যাটি নিয়ে কথা বলছি। মালবাজার সেচ দপ্তরের এসডিও কেশব রায় বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।