তিস্তার গ্রাসে শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, আতঙ্কে সীমান্তবাসী

0
1746
- Advertisement -

মেখলিগঞ্জ: চোর-ডাকাত রুখতে নয়। নদীর ভয়ঙ্কর রূপের আতঙ্কে রাতভর জেগে এলাকা পাহারায় রইলেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি মেখলিগঞ্জ ব্লকের কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ২৫ তিস্তাপয়স্থি ফাকতের চর এলাকার। ওই এলাকার মানুষরা অবশ্য জানিয়েছেন, নদীর ভয়ে রাত জেগে কাটানোর ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। বর্ষাকাল শুরু হলেই নদীতে জল বাড়ে। বন্যায় তিস্তার ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন প্রায়ই রাত জেগে কাটাতে হয়। যেহেতু গ্রামটি রয়েছে একেবারে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে, তাই নদী কখন সবকিছু ভাসিয়ে বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যায় সেই আশঙ্কা তাঁদের মাঝেমধ্যেই তাড়া করে বেড়ায়।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদীতে জল বাড়ায় তিস্তা এই এলাকাতেও ব্যাপকভাবে ভেঙে চলেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে এলাকার একমাত্র শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি ইতিমধ্যেই তিস্তা নদী গ্রাস করে ফেলেছে। বাকি অর্ধেক অংশ ঝুলে রয়েছে। গোটা ঘরটি অস্তিত্বই বর্তমানে নিশ্চিহ্ন হবার মুখে। এই অবস্থায় নদী তিস্তার ভাঙনের ভয়েই তাঁদের রাত জেগে কাটাতে হয়েছে। হরিকান্ত রায়, ছাত্তার আলী, শাহীন আলী প্রমুখ স্থায়ী বাসিন্দা জানান, নদীতে জল বাড়তেই তাদের আতঙ্ক বেড়ে গিয়েছে। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ইতিমধ্যেই অনেকের চাষের জমি বিলীন হয়ে গিয়েছে।

এলাকার একমাত্র শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটি এক প্রকার ঝুলে রয়েছে। যেটা যে কোনও সময় পুরোটাই নদীতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক বাড়িতে জল ঢুকেছে। সব মিলিয়ে গত দুদিন থেকে তাঁরা দারুণ সমস্যা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নিতেও কারোও দেখা মিলছে না বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। উল্লেখ্য, তিস্তা নদী এবং বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে রয়েছে এই চর এলাকাটি। তিস্তা পেরিয়ে তারপর গ্রামে যেতে হয় বাসিন্দাদের। অর্থাৎ নদীর মাঝে একটি দ্বীপের মত এই গ্রামটি। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এই এলাকার মানুষের একটি অন্যতম সমস্যা। নৌকা এবং হাঁটাপথই বাসিন্দাদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম।

গ্রামবাসীরা জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্তে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নিয়মকানুনের কড়াকড়ি, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, তিস্তা নদীর ভাঙন ইত্যাদি নানা কারণে তাদের বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। শত সমস্যা সত্ত্বেও তাদের এই চর এলাকা ছেড়ে অন্যত্র সরে যাবার কোনও উপায় নেই। কারণ এখানকার অধিকাংশ মানুষই কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। চর এলাকায় থাকা জমিতে চাষাবাদ এবং অনেকে পশুপালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

সকলের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। এই অবস্থায় চর ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়ে বসবাস করার সামর্থ্য নেই অধিকাংশের। এছাড়াও অন্যত্র গিয়েই বা কি করবেন? কি কাজ করবেন? এইসব প্রশ্নের উত্তর তারা খুঁজে পান না। তাই স্বাভাবিকভাবেই তিস্তা নদী ক্ষতি করলেও তিস্তার চরকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই এলাকার মানুষজন। অনেকে আবার বলেন, এই এলাকার জমিতে চাষের কাজও তুলনামূলক ভালো হয়। গোরু-মহিষ চড়ানোর কাজেও অনেক সুবিধা হয়। তাই তাঁরা চর ছাড়তে পারেন না।

কুচলিবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান জয়শ্রী রায় জানিয়েছেন, তিস্তার ভাঙনে ২৫ পয়স্থি এলাকায় থাকা একটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র পুরো তলিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। এবিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এছাড়াও ওই এলাকার মানুষের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। সেইসব বিষয়েও প্রশাসনিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

- Advertisement -