নদী ভাঙন রোধে পদক্ষেপ চান মেখলিগঞ্জ সীমান্তবাসী

358

মেখলিগঞ্জ: শুকনো মরশুমেও নদী ভাঙন নিয়ে চিন্তিত মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, শুধু বর্ষাকালেই নয়। নদী ভাঙছে শুকনো মরশুমেও। অর্থাৎ অনেক স্থানে সারা বছর ভাঙন অব্যহত থাকে। তাই তাঁরা দাবি তুলেছেন, আসন্ন বর্ষার আগেই ভাঙন কবলিত অসংরক্ষিত এলাকায় পাড় বাঁধ নির্মাণ করা হোক। কারণ বর্ষাকালে নদীতে জল বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে অসুবিধা হয়।স্থানীয়রা জানান, মেখলিগঞ্জ ব্লকের কয়েকটি সমস্যার মধ্যে নদী ভাঙনও একটি অন্যতম সমস্যা। ব্লকের আটটি গ্রামপঞ্চায়েতের প্রায় প্রতিটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকা থেকেই নদী ভাঙন সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, বিষয়টি অজানা নয় প্রশাসনের। তাদের তরফেও অবশ্য সমস্যা সমাধানে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখা হচ্ছেনা বলে জানানো হয়েছে।

সীমান্তবর্তী নিজতরফ, বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি, কুচলিবাড়ি, চ্যাংরাবান্ধা, রানীরহাট প্রভৃতি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকা থেকেই নদী ভাঙন সমস্যার কথা বলা হচ্ছে। এবারের বর্ষাতেও নদী ভাঙন অনেকের ক্ষতি করছে। তাই সমস্যার স্থায়ী সমাধান তাঁরা চাইছেন। উল্লেখ্য, মেখলিগঞ্জ ব্লকের উপর দিয়েই বয়ে গিয়েছে তিস্তা, ধরলা, জলঢাকা, সানিয়াজান প্রভৃতি নদী গুলি। তবে তিস্তা নদী বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি, নিজতরফ এবং কুচলিবাড়ি এলাকার মানুষের আতঙ্কের কারণ। কারণ তিস্তার ভাঙনে ইতিমধ্যেই কয়েকটি এলাকায় অনেক মানুষের ক্ষতি করেছে। গত কয়েকবছরে তিস্তা নদীর ভাঙনের কবলে পরে এই এলাকার অনেক মানুষের চাষের জমি এমনকি বসত ভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। তাই বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী ভাঙনের চিন্তা বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এইসব এলাকার মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। ভাঙন সমস্যার কথা বলেছেন

- Advertisement -

নিজতরফের বিভিন্ন মানুষজনও। এই গ্রামের ৭২ নিজতরফ গ্রামের মানুষ এবারের বন্যাতেও চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন। তিস্তার জল গ্রামে ঢুকে বাড়িঘরে জল প্রবেশ করেছিল। নদী ভাঙতে ভাঙতে অনেকটাই বসতি এলাকার দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করেছে। এবারের বর্ষায় পরিস্থিতি ভয়ানক আকার ধারণ করায় গ্রামের মানুষ নিজেরাই দিনের পর দিন বালির বস্তা, বাঁশ, গাছের ডাল ইত্যাদি ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করেছেন। ধরলা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চ্যাংরাবান্ধা গ্রামপঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকাও। এখানকার দেবীকলোনি এলাকায় ইতিমধ্যেই ধরলা নদী চা বাগান, চাষের জমি গিলে ফেলেছে।

১৫৭ জামালদহ চিতিয়ারডাঙ্গা গ্রামের মানুষেরাও নদী ভাঙন সমস্যার কথা বলেছেন। তাপস মন্ডল, বিনোদ রায় নদী সংলগ্ন এলাকার প্রমূখ বাসিন্দা জানিয়েছেন, নদী ভাঙনে এলাকার প্রচুর মানুষের চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী এখনও ভেঙে চলেছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা চিন্তায় রয়েছেন।‘ সেচ দপ্তরের জলপাইগুড়ি ডিভিশনের এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, ‘ইতিমধ্যেই তাঁরা মেখলিগঞ্জ ব্লকেরও ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে এসেছেন। তাদের সাথে ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।‘ মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিয়তি সরকার বলেন, ‘এই এলাকার ভাঙন সমস্যার বিষয়ে তিনিও অবগত রয়েছেন। বিষয়টি সেচ দপ্তর সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। সমস্যা মেটার বিষয়ে আমি আশাবাদী।‘