নদী ভাঙন নিয়ে চিন্তা সীমান্তের মেখলিগঞ্জ ব্লকে

179

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: বর্ষায় নদী ভাঙছে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায়। যা নিয়ে চিন্তিত এলাকার মানুষজন। ব্লকের কুচলিবাড়ি, নিজতরফ, বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি, চ্যাংরাবান্ধা, রানীরহাট সর্বত্রই এই ভাঙন সমস্যা রয়েছে। বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি গ্রামের ১০৪ ফুলকাডাবরি গ্রামে সানিয়াজান নদীর ভাঙনে ইতিমধ্যেই অনেকের চা বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। অনেকের চাষের জমিও ভেসে গিয়েছে। এই এলাকায় নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম।

বুধবার থেকে নদীতে জল বাড়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। স্থানীয়রা অবশ্য জানিয়েছেন, জল কমতে থাকলেও ভাঙন অব্যাহত থাকে। এই নদীর পাশেই রয়েছে নদী সেচ প্রকল্পের একটি ঘর। নদী ভাঙন দ্রুত আটকানো না গেলে চালু হওয়ার আগেই নদী সেচ প্রকল্পের ঘরটি ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদী ভাঙন নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। ইতিমধ্যেই নদী তাদের অনেক কিছু গ্রাস করে ফেলেছে। এবার বসত ভিটা বাঁচানো নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। তাই ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণের দাবি করা হয়েছে।

- Advertisement -

ধরলা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ১৪১ কামাত চ্যাংরাবান্ধার দেবীকলোনিতে ধরলার ভাঙনে গত কয়েকবছরে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখানেও নদী ঘেঁষে চা বাগান এবং চাষের জমি রয়েছে। সমস্যার কথা বলেছেন চ্যাংরাবান্ধার চিতিয়ারডাঙ্গা গ্রামের মানুষও। তাঁরাও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পার বাঁধ তৈরির দাবি করে আসছেন। ইতিমধ্যেই ওই এলাকা পরিদর্শনও করে গিয়েছেন সেচ দপ্তর এবং পঞ্চায়েত প্রশাসনের কর্তারা। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। নদী ভাঙন নিয়ে সমস্যার কথা বলেছেন বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরাও।

আজ কোচবিহার জেলা পরিষদের সদস্যা ফুলতি রায় বলেন, ‘বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০৪ ফুলকাডাবরি এলাকার নদী ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার অনেকে চিন্তায় রয়েছেন। এছাড়াও এই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্যত্র এবং কুচলিবাড়ি এলাকায়ও এই ভাঙন সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি যথাযথ মহলে আলোচনা করেছেন।’ ভাঙন কবলিত এলাকাগুলিও তিনি ফের পরিদর্শন করে বিস্তারিত খোঁজখবর নেবেন বলে জানান।

মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিয়তি সরকার জানিয়েছেন, নদী ভাঙনের সমস্যার বিষয়ে অনেকে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বিষয়টি সেচ দপ্তরকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে সেচ দপ্তরের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, মেখলিগঞ্জ ব্লকের নদীভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কেও তাঁরা অবগত রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।