জলঢাকার জলে তলিয়ে যাচ্ছে বেতগারা খড়িবাড়ি

252

ময়নাগুড়ি : গতবছর নদীভাঙনে একের পর এক বাড়ি জলঢাকায় তলিয়ে গিয়েছে। সেই থেকে অসহায় অবস্থায় প্রতিবেশীদের বাড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দিন কাটছে। এবারও বর্ষা নামতেই ভাঙন শুরু হয়েছে। ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বেতগারা খড়িবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা জলঢাকার ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন।

গত কয়েক বছর ধরে বেতগারা খড়িবাড়ি এলাকায় নদীভাঙন চলছে। গতবছর বেশ কয়েকটি বাড়ি জলঢাকার জলে তলিয়ে গিয়েছে। এবারও বর্ষা শুরু হতেই নদীর জল বাড়তে শুরু করেছে। ফলে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় এলাকাবাসীর রাতের ঘুম উড়েছে। স্থানীয বাসিন্দা সুশীল অধিকারী বলেন, ‘গতবছর আমার বাড়ির একাংশ নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। এখনও নদীভাঙন চলছে। যেভাবে নদী এগিযে আসছে, তাতে চলতি মরশুমে ওই এলাকা নদীতে তলিয়ে যাওযার আশঙ্কা রয়েছে। গতবছর থেকে ভাঙন মোকাবিলায় পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। কিন্তু আজ অবধি তা বাস্তবায়িত হয়নি।’ আরেক বাসিন্দা বিশাখা অধিকারী বলেন, ‘গতবছরে আমাদের বাড়ির একাংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। বাধ্য হযে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।’ আরেক বাসিন্দা রেখা অধিকারী বলেন, ‘বাড়ির গা ঘেঁষে জলঢাকা নদী বয়ে যাচ্ছে। যে কোনও মুহূর্তে বাড়িঘর তলিয়ে যেতে পারে। প্রতিদিনই একটু একটু করে জমি চলে যাচ্ছে নদীতে। এই অবস্থায় কী করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। বর্ষার মরশুম শেষ হতে এখনও দেরি রয়েছে। ভাঙন রুখতে প্রশাসনের তরফে কিছু না করা হলে সম্পূর্ণ এলাকা নদীতে তলিয়ে যাবে।’

- Advertisement -

আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দিলীপ রায় বলেন, ‘ওই এলাকায় জলঢাকা নদীর স্রোতে প্রচুর জমি তলিয়ে গিয়েছে। তাঁরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছেন। সেচ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’ সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জলঢাকার ভাঙন ঠেকাতে দাসপাড়া এলাকায় বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। এই এলাকার সমস্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তথ্য ও ছবি- অর্ঘ্য বিশ্বাস