বীরপাড়ায় নদীই হয়ে উঠেছে ডাম্পিং গ্রাউন্ড

বীরপাড়া : লোকালয়ে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে নদীতে। বীরপাড়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির কাজ শুরুর পরেও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে রাস্তার ধারে নদীতে। স্বাভাবিকভাবেই দূষিত হয়ে উঠেছে বীরপাড়ার লোকালয় সহ আশপাশের পরিবেশ। আবর্জনা ফেলার কাজ করে বীরপাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েত। তবে এভাবে যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ জমে থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি না হওয়ায় একদিকে লোকালয়ে জমা আবর্জনায় বসবাস করা মুশকিল হচ্ছে। আবার ওই আবর্জনা বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিতভাবে নদীতে ফেলায় দূষণ ছড়াচ্ছে। বীরপাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় লোকালয়ে বাইরে যেখানেই ফাঁকা জায়গা মিলছে সেখানেই ফেলা হয় আবর্জনা।

গত জানুয়ারিতে গ্যারগান্ডা নদীর ধারে ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জেরে বন্ধ হয়ে যায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির কাজ। ফলে বীরপাড়ার অলিগলি তো বটেই, আবর্জনা জমছে ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে পাশেও। এমনকি বীরপাড়া ঘেঁষা সুকতি ও বিরবিটি নদীর বুকেও আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। নদীগুলিতে শুখা মরশুমে জল থাকে না। ফলে নদীর বুকে জমা আবর্জনার গন্ধে দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ । ওই প্রকল্পটি তৈরির জন্য মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতি ৩৮ লক্ষ টাকার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ৩৮ লক্ষ টাকার মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের সীমান্তপ্রাচীর তৈরি ও অন্য কিছু কাজ করবে। তবে তারও আগে এলাকাটির জঙ্গল সাফাই, জমি সমান করা, রাস্তা তৈরি করা সহ প্রাথমিক কাজে ১০০ দিনের প্রকল্পে আরও অতিরিক্ত ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে। করোনা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে প্রাথমিক কাজও শুরু হয়। লকডাউন শুরুর পরই বন্ধ হয়ে যায় কাজ।

- Advertisement -

বীরপাড়ার বাসিন্দা অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির কাজ দ্রুত শুরু করা দরকার। আবর্জনার দূষণে এলাকায় টেকা দায় হয়ে পড়েছে। বীরপাড়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি নিয়ে ইতিমধ্যেই কাঠখড় পুড়েছে। কয়েক বছর আগে গ্যারগান্ডা নদীর পশ্চিম ধারে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির জন্য জমি চিহ্নিত করে প্রশাসন। কিন্তু ওই জমি দখল হয়ে যায়। দেড় বছর ধরে চেষ্টা করেও জমি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বরাদ্দ ২০ লক্ষ টাকাও ফেরত যায়। এরপর নদীর পূর্ব দিকে প্রায় আড়াই বিঘা খাসজমি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের হাতে ওই প্রকল্প তৈরির জন্য তুলে দেয় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রমেশ মণ্ডল অবশ্য বলেন, ইতিপূর্বে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে একশো দিনের প্রকল্পে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়। পুনরায় কাজ শুরুর জন্য প্রশাসনের অনুমতি চাওয়া হবে।