নদীর গতিপথ আটকে চলছে ওভারব্রিজের নির্মাণ

215

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : জাতীয় সড়কের ওভারব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। কিন্তু সেই কাজ চলছে অত্যন্ত ঢিমেতালে। এরই মধ্যে চলে এসেছে বর্ষা। ফুঁসতে শুরু করেছে কুলিক নদী। যার ফলে বানভাসির আশঙ্কায় ভুগছেন কুলিক পাড়ের বাসিন্দারা। রায়গঞ্জের এলেঙ্গিয়াতে জাতীয় সড়কের ওভারব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে নদীর গতিপথ আটকে। সেখানে বেশ কিছুদিন ধরে কাজ চলছে। তবে বর্ষার আগে নদীতে জল কম থাকায় কোনও সমস্যা হয়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনও সময় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এমনকি নদীর গতিপথ রুখে দেওয়ায় ভাঙনের আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের চার লেনের কাজ গত মাস থেকে শুরু হয়েছে। তখন থেকেই কার্যত নদীর গতিপথ আটকে রাখা হয়েছে। এই ভরা বর্ষায় আস্তে আস্তে নদীর জল বাড়তে শুরু করেছে। এরপর নদী কোন দিকে মোড় নেয় সেই নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন বাসিন্দারা।

- Advertisement -

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের মালদা ডিভিশনের আধিকারিক ডিকে হানসারি বলেন, কুলিক নদীর মাঝে ছয়টি হিউম পাইপ দেওয়া হয়েছে জল পারাপারের জন্য। তার ওপরে মাটি দেওয়া হয়েছে। জল বাড়লে খুলে দেওয়া হবে। করোনেশন হাইস্কুলের ভূগোলের শিক্ষক সঞ্জিত গোস্বামী বলেন, এভাবে নদীর গতিপথ আটকে জাতীয় সড়কের যে কাজ হচ্ছে তা ঠিক নয়। নদীর জলপ্রবাহ আটকালে ভাঙনের আশঙ্কা থাকে গতিপথের পরিবর্তনও হতে পারে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের উচিত, কুলিক নদীর মাঝ বরাবর যে মাটির রাস্তা করেছে তা খুলে দেওয়া। হাতিয়া হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক তথা পরিবেশবিদ মিঠু মল্লিকের কথায়, উন্নয়নকে আমরা সমর্থন করি, কিন্তু নদীর গতিপথ আটকে জাতীয় সড়ক করা ঠিক নয়। এছাড়াও অন্যান্য পরিবেশপ্রেমীরাও সোচ্চার হয়েছেন কুলিক নদীর মাঝে রাস্তা করায়।