বিসর্জনের একমাস পেরোলেও, কাঠামো পড়ে নদীতেই, রূদ্ধ হচ্ছে নদীর গতিপথ

198

ফাঁসিদেওয়া, ৩ ডিসেম্বরঃ দশমীর পর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও, প্রতিমার কাঠামো নদীর জলেই ভেসে রয়েছে। ফাঁসিদেওয়ার বুক চিরে বয়ে চলা পিচলা নদীতে দশমীর দিন বিসর্জন করা হয়েছে। এলাকার প্রায় সকল ক্লাবই ওই নদীতে ভাসান পর্ব সেরেছে। তারপর অনেকগুলি দিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু, নদী পরিষ্কার করতে প্রশানসের তরফে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট মহলে নদী দূষণের প্রসঙ্গটিও প্রকট হয়েছে। ভাসানের সময় শুধু প্রতিমা নয়, পুজোয় ব্যবহৃত অনেক কিছুই ফেলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি, প্লাস্টিকও ওই নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই অভিযোগ করেছেন। গোয়ালটুলি দিয়ে ফাঁসিদেওয়া ঢোকার পথে পিচলা নদীর সেতু পার করেই যেতে হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মত, দূষণের পাশাপাশি, ফাঁসিদেওয়া প্রবেশের সময় তা দৃষ্টিকটুও লাগছে বটে।

- Advertisement -

এছাড়া পিচলা-র ওই অংশ তেমন খরস্রোতা না হওয়ায়, কিছু জায়গায় নদীর গতিপথও রূদ্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকে প্রকাশ করেছেন। এলাকার দু্র্গাপুজা উদ্যোক্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইতিমধ্যেই, নদী থেকে কাঠামো তুলে এবং পরিষ্কার করে দূষণমুক্ত করার দাবি উঠেছে। পরিবেশপ্রেমী মহলও বিষয়টি নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন। পরিবেশপ্রেমী তথা সমাজসেবী বাপন  দাস জানিয়েছেন, যে সকল ক্লাব কর্তৃপক্ষ নদীতে বিসর্জন করেছে, তাঁদেরই পরিবেশের কথা মাথায় রেখে কাঠামো তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তবে, বেশীরভাগ সময়ই তা করা হচ্ছে না। এই উদাসীনতার কারণে নদী দূষণ হচ্ছে।

এবিষয়ে ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন, নদী পরিষ্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন নদী থেকে প্রতিমার কাঠামো এবং পুজোর সামগ্রী তোলা হলনা খোঁজ নিয়ে দেখেব। তিনি আরও জানান, শীঘ্রই নদী পরিষ্কারের বিষয়টি গুরুত্ব দেখা হবে।