অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে সারারাত বাংড়ি নদীর পাড়ে

304

মাদারিহাট : বাংড়ি নদীর পাড়ে অ্যাম্বুল্যান্সে অসুস্থ ছেলেকে নিযে রাতভর কাটাল টোটো পরিবার। ভোরের আলো ফোটার পর জল কমলেও নতুন সমস্যা দাঁড়ায় নদীর পাড় ধসে গিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। এদিকে অসুস্থ ছেলে যন্ত্রণায ক্রমেই নিস্তেজ হযে পড়ে। শেষে উপায় নেই দেখে অসুস্থ ছেলেকে অ্যাম্বুল্যান্সে শুইয়ে রেখে তিনি নিজেই অ্যাম্বুল্যান্স চালককে সঙ্গে নিযে রাস্তা মেরামতে হাত লাগান। ততক্ষণে বাগানের এক যুবক চলে এসেছেন সেখানে। তাঁর হাতে ১৫০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে তিনজন মিলে রাস্তার কিছুটা মেরামত করে গাড়ি চলাচলের যোগ্য করেন। তারপর ছেলেকে নিযে শুভজিৎ টোটো যখন বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে পৌঁছোন তখন ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১০টা। শুভজিৎবাবু বলেন, ‘ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পেরেছি। এখন  চিকিৎসকরাই যা করার করবেন।’

বেশ কয়েকদিন ধরে ডাযারিয়ায় ভুগছিল শুভজিৎবাবুর দেড় বছরের ছেলে। রবিবার রাতে টোটোপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয় তাকে। দেরি না করে রাত ১২টা নাগাদ ছেলেকে নিযে রওনা দেন শুভজিৎবাবু। টোটোপাড়ার ২৮ বছরের পুরোনো লজঝড়ে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে বীরপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন টোটোপাড়ার ধুমসিগাঁওয়ের বাসিন্দা শুভজিৎবাবু। ছেলে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হলে শনিবার টোটোপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করান।  কিন্তু রবিবার অবস্থার অবনতি হলে রাত ১১টা নাগাদ চিকিৎসকরা বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে রেফার করে দেন। এরপর রাত ১২টা নাগাদ ছেলেকে নিয়ে রওনা দেন শুভজিৎবাবু। তখন প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। ভয়ংকর হয়ে ওঠা হাউড়ি নদী কোনওভাবে পার করেন চালক দিলীপ টোটো। কিন্তু বাংড়ি নদীতে গিয়ে আটকে পড়েন। দিলীপবাবু জানান, এক-এক করে ১৩টি ঝোরা পার করে রাত ১টা নাগাদ পৌঁছোন হান্টাপাড়ার কাছে বাংড়ি নদীর পাড়ে।

- Advertisement -

শুভজিৎবাবু বলেন, ‘দেখি ছেলে ক্রমেই নিস্তেজ হযে আসছে। কিন্তু নদীর জল না কমলে পার হওযার তো উপায় নেই। সারারাত নদীর পাড়েই বসে থাকি।  ভোরের দিকে জল কমলেও নতুন সমস্যা হয় পাড় ধসে গিয়ে বড় গর্ত হয়ে যায়। এদিকে ছেলে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আর উপায় নেই দেখে তখন চালকের সঙ্গে গর্ত ভরাট করার কাজে হাত লাগাই। ওইসময় হান্টাপাড়া চা বাগানের এক যুবক এলে তাকে কিছু টাকা তুলে দিলে সেও কাজে হাত লাগায়। এই করতে করতে সকাল ৯টা নাগাদ কোনওক্রমে অ্যাম্বুল্যান্স পার করা সম্ভব য়য। সকাল ১০টা নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছোতে পারি। শুভজিৎবাবুর আক্ষেপ, ‘কত দুর্গম এলাকায় ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে। অথচ তিতি ও বাংড়ি নদীর উপর ব্রিজ তৈরির কোনও চেষ্টা কেউ কেন করছেন না বুঝতে পারছি না।’ টোটোপাড়া বল্লালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আশা এস বোমজান বলেন, ‘বর্ষা এলেই আমরা দ্বীপচরের বাসিন্দা হয়ে যাই। সাধারণ মানুষের যত রাগ ক্ষোভ আমার উপর এসে পড়ে। এই দুটি নদীর উপর ব্রিজ তৈরির আবেদন বহুবার জমা দিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কিছুই হয়নি।’

তথ্য ও ছবি- নীহাররঞ্জন ঘোষ