করলা পারাপারে থার্মোকলের ভেলা ভরসা সারদাপল্লির

412

জলপাইগুড়ি : শহরে যাতায়াতে বাঁধের উপর দিযে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরত্ব পেরোতে হয়। কিন্তু সেই রাস্তার যা দশা তা বলার নয়। বেহাল রাস্তায় চলাচলে সবাইকে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হয়। সমস্যা মেটানোর জন্য বাসিন্দারা নদীপথকে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু সেই নদী পারাপারে কোনো সেতু নেই। নৌকাও নেই। তাই এলাকার প্রতিটি বাড়িতে সাইকেল, বাইকের পাশাপাশি থার্মোকলের ভেলা রয়েছে। স্কুলের ছাত্রছাত্রী হোক বা মুমূর্ষু রোগী, করলা পারাপারে এই থার্মোকলের ভেলাই তাঁদের ভরসা। করলা নদীর উপর সেতু না থাকায় জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সারদাপল্লির প্রায় দুহাজার মানুষ এভাবেই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নদী পেরোচ্ছেন। স্থানীয প্রশাসন সমস্যার কথা স্বীকার করেছে। খড়িযা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুভাষ চন্দ বলেন, ‘এ বছরও এলাকায একটি সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হবে। তবে সারদাপল্লির বাসিন্দাদের কথা ভেবে আমরা সেখানে একটি স্থাযী সেতু তৈরির বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। বিষয়টি জেলাপরিষদের নজরে আনা হয়েছে। প্রয়োজনে বিষযটি শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-কেও জানানো হবে।’

সারদাপল্লির একপাশে তিস্তা আর অন্য পাশ দিয়ে করলা বয়ে গিয়েছে। জুবিলি পার্ক থেকে দক্ষিণে সেচ দপ্তরের বাঁধ বরাবর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসতি গড়ে উঠেছে। এলাকায ৯০০-র কিছু বেশি ভোটার রয়েছেন। নদীর উপর সেচ দপ্তরের বাঁধটিই শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। শুখা মরশুমে সাইকেল, বাইক নিযে এই রাস্তার উপর দিযে চলাচল করা গেলেও রাস্তার বেহাল দশার জেরে শহর থেকে টোটো, রিকশা সারদাপল্লিতে যেতে নারাজ। বর্ষার সময় জলকাদার জেরে রাস্তাটি হেঁটে চলাচলেরও অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। সারদাপল্লি সংলগ্ন করলা নদীর অন্য পাড়ে খড়িযা গ্রাম পঞ্চায়েতের গন্ডার মোড়, ব্রহ্মতলপাড়া ও জলপাইগুড়ি পুরসভার ৯ নম্বর ওযার্ডের পিলখানা কলোনি রয়েছে। নদীর এ প্রান্তের সমস্ত রাস্তাঘাট পাকা। যাতায়াতের জন্য এই সমস্ত এলাকায় সবসময় টোটো, রিকশা পাওয়া যায়। সারদাপল্লির বাসিন্দারা নদী পেরিযে এই সমস্ত এলাকায় এলেই যাতায়াত সংক্রান্ত ঝক্কি তাঁদের অনেকটাই কমে। একদিকে গন্তব্যের দূরত্ব যেমন কমে, অন্যদিকে যাতায়াতের জন্য সহজে বিভিন্ন যানবাহনও মেলে।

- Advertisement -

কিন্তু করলা নদী পারাপারের জন্য এলাকায় সেতু না থাকায় সারদাপল্লির বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন। সারদাপল্লির বাসিন্দাদের কথা মাথায রেখে খড়িযা গ্রাম পঞ্চায়েতে উদ্যোগে কয়েক বছর ধরে শীতের মরশুমে করলার উপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়। বাসিন্দারা তিন-চার মাস এই সাঁকোটি ব্যবহার করেন। তবে বর্ষায় নদীতে জল বাড়লেই সাঁকো ভেসে যায। তখন যাতাযাতের রাস্তা বলতে জলকাদায় ভরা সেচ দপ্তরের বাঁধটিই ভরসা। সারদাপল্লির বাসিন্দারা গত কয়েকবছর ধরেই এভাবেই যাতাযাত করছেন। কিন্তু চলতি বছর শুখা মরশুমে গন্ডার মোড়, ব্রহ্মতলপাড়া এলাকায করলার উপর বাঁশের সাঁকো তৈরি হযনি। দূরত্ব কমাতে নদীপথে যাতাযাতের সারদাপল্লি এলাকার বাসিন্দাদের কাছে বর্তমানে থার্মোকলের ভেলাই একমাত্র ভরসা। এলাকার প্রতিটি বাড়িতেই বর্তমানে সাইকেল, বাইকের সঙ্গে থার্মোকলের ভেলাও অত্যাবশ্যকীয় বাহন হিসাবে ঠাঁই পেয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা কানন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা যদি নদীবাঁধ ধরে জুবিলি পার্ক দিযে শহরে যাই তাহলে ভাঙাচোরা রাস্তায় প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে হয়। রাস্তার যা দশা তাতে এখানে কোনো টোটো, রিকশা চলে না। কিন্তু নদী পার হযে ব্রহ্মতলপাড়ার দিকে গেলে পাকা রাস্তা, টোটো, রিকশা সবই মেলে। শহরে যাতাযাতে ঝক্কিও অনেকটা কমে। এজন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায একটি সেতুর দাবি জানালেও আজও তা পূরণ হযনি।’ এলাকাবাসী বিনতা বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের অনেককেই দিনের মধ্যে চার-পাঁচবার নদী পারাপার করতে হয়। নদী পারাপারের জন্য নৌকার কোনো ব্যবস্থা না থাকায থার্মোকলের তৈরি ভেলাই আমাদের একমাত্র ভরসা।’

তথ্য ও ছবি -সৌরভ দেব