ফালাকাটা : সাড়ে তিন বছরে রাইচেঙ্গা তথা ফালাকাটার অর্থনীতি আমূল বদলে দিয়েছে কিষান মান্ডি। পরিসেবার নিরিখে ফালাকাটা কিষান মান্ডি গোটা রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। সরকারিভাবে একে ‘মডেল কৃষক বাজার’ বলা হয়। দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন পণ্য কিনতে। আলিপুরদুয়ার ছাড়াও কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল পাইকারি দরে বিক্রি করেন এই বাজারে। প্রতিদিন বাজারে প্রায় দশ হাজার মানুষ আসেন। অথচ তাঁদের জন্য পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করে উঠতে পারেনি বাজার কমিটি। সরকারিভাবে বাজার চত্বরে থাকা তিনটি টিউবওয়েলই পানীয় জলের একমাত্র উৎস। ক্রেতা-বিক্রেতা সহ বাইরের ব্যবসায়ীদের সকলের অভিযোগ, এই টিউবওয়েলের জলে মারাত্মক আয়রন রয়েছে। কিন্তু উপায় না থাকায় সেই দূষিত জল খেতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। আশপাশের গ্রামগুলিতেও নলবাহিত জল পরিসেবা নেই। শহর লাগোয়া এরকম একটি জনসমাগম এলাকায় পিএইচই-র পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, ‘ওখানে পানীয় জলের জন্য একটি প্রস্তাব প্রশাসনের উপরমহলে পাঠানো হয়েছে।’

২০১৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে চালু হয় ফালাকাটা কিষান মান্ডি। আরএমসি পরিচালিত ২২টি স্টল রয়েছে এখানে। আরও ১০০টি স্টল তৈরি হয়েছে। এই মান্ডির বাইরে ও িতরে শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় এই বাজার। চলে রাত ১০-১১টা অবধি। আবার ভোর ৩টে থেকে সকাল ৯-১০ টা পর্যন্ত এখানে কেনাবেচা চলে। ফালাকাটার সাপ্তাহিক হাটবার হিসেবে প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার সব থেকে বেশি ভিড় হয়। গড়ে দশ হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা এই বাজারে আসেন । রাজ্যের অন্যতম বড়ো কৃষিবাজার হওয়ায় এটিকে ই গভর্ননেন্সের আওতায় আনা হয়েছে।অথচ  বাজারে পরিস্রুত পানীয় জল তো দূরের কথা গভীর টিউবওয়েল পর্যন্ত নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই বাড়ি থেকে বোতলে জল নিয়ে আসেন। কিন্তু বাইরে থেকে আসা কৃষক,ব্যবসায়ীদের আয়রনযুক্ত জল না খেয়ে উপায় নেই।

কিষান মান্ডির একটি আলুর স্টলের মালিক তথা স্থানীয় ব্যবসায়ী রতন রায় বলেন, ‘এত উন্নত বাজারে পরিস্রুত জল না থাকায় হাজার হাজার মানুষের সমস্যা হচ্ছে। আমরা তো বাড়ি থেকে খাবার জল নিয়ে আসি। কিন্তু বাইরে থেকে আসা সবাইকে এখানকার দূষিত জলই খেতে হচ্ছে।’ বংশীধরপুরের কৃষক সুশান্ত সরকার ও জিতেন সরকার প্রতিদিন সবজি বিক্রি করতে এই বাজারে আসেন। তাঁরা জানান, গরমের দিনে বাধ্য হয়ে এখানকার টিউবওয়েলের জলই খেতে হয়৷ মাথাভাঙা থেকে মাশরুম বিক্রি করতে আসা বাবলু বর্মন বলেন, ‘এখানকার জল খেয়ে মাঝে মধ্যে পেটের রোগ হয়।’ আরএমসি-র আলিপুরদুয়ার জেলা আধিকারিক সুব্রতকুমার দে বলেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ পিএইচই-র এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন,’ফান্ড সহ আমাদের কাছে প্রস্তাব এলে বিষয়টি দেখা হবে।’

ছবি- ফালাকাটার কিষান মান্ডিতে এভাবেই টিউবওয়েল থেকে দূষিত জল সংগ্রহ করেন ব্যবসায়ীরা।

ছবি ও তথ্য- সূভাষ বর্মন