চিপকে রো-হিট শোয়ে অ্যাডভান্টেজ ভারতের

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : গোরুর খোয়ার।

চিপকের পিচ নিযে একদা বলেছিলেন ক্ষুব্ধ ভিভ রিচার্ডস। ঘূর্নি পিচ বানিযে ওযে্ট ইন্ডিজকে সেবার ল্যাজেগোবড়ে করেছিল ভারত। মাঝে প্রায় ৩৩ বছর পার। সেদিনের মাদ্রাজের নাম বদলে এখন চেন্নাই। রিচার্ডস অবসর গ্রহের বাসিন্দা। ওই ম্যাচের অধিনায়ক রবি শাস্ত্রী আজ বিরাটদের কোচ।

- Advertisement -

 

কিন্তু চিপক আছে চিপকেই। আজ দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম সেশনে পুরোনো স্মৃতি উসকে দিল। প্রথম দিন থেকেই বল ঘুরবে, বলেছিলেন আজিঙ্কা রাহানে। কিন্তু কজন ভেবেছিলেন প্রথম ঘণ্টা থেকেই তা হবে! পিচের উপরিভাগ আলগা হয়ে ধুলো উড়ছে! ম্যাচের প্রথম সেশনেই পিচে রাফ! বলটা শুধু ঠিকঠাক রাখলেই হবে। বাকিটা পিচ করে দেবে!

বিরাটের আউটের বলটা যেমন। এতটা টার্ন কীভাবে সম্ভব হিসেব মেলাতে পারছিলেন না শূন্য রানে ফেরা ভারত অধিনায়ক। চেতেশ্বর পূজারা তার আগে আউট জ্যাক লিচের ঘূর্নিতে। প্রথম দিনের পিচে চতুর্থ দিনের ছায়া! কমেন্ট্রি বক্সে যা নিয়ে জমিয়ে বিতর্ক আশিস নেহেরা, গৌতম গম্ভীরদের। হরভজন সিংয়ের টুইট, টেস্ট ম্যাচের প্রথম সেশন। বল যেভাবে স্পিন করছে, মনে হচ্ছে ম্যাচের অষ্টম দিনের পিচ। ৩-৩.৫ দিনেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাবে।

দিনের শেষে ছবিটা যদিও একটু অন্যরকম। পিচের জুজু, ৮৬/৩ স্কোরের চাপ উধাও। শূন্য থেকে শুরুর ম্যাচে ভারত দাঁড়িয়ে শক্ত ভিতে। সৌজন্যে রোহিত শর্মা। প্রতিকূল পিচে নিজেই প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন। পালটা মারের হিট শোয়ে ভারতকে পৌঁছে দিলেন স্বস্তির ৩০০/৬-এ। রোহিতের একারই ১৬১! আজিঙ্কা রাহানের ৬৭। ব্যাটন আপাতত ঋষভ পন্থের (অপরাজিত ৩৩) হাতে। কাল ঋষভের ব্যাট চললে ভারতের রাশ আরও শক্ত হবে। সুনীল গাভাসকারের মতে, এই পিচে ৩৫০-৩৭০ ভালো প্রথম ইনিংস স্কোর। রাহানেও জানান, আরও ৫০-৬০ হলে ভালো হয়।

প্রথম টেস্টে বিজয়ী ইংল্যান্ড ও পরাজিত ভারত, দুই দলই একঝাঁক পরিবর্তন। জসপ্রীত বুমরাহ, শাহবাজ নাদিম, ওয়াশিংটন সুন্দরের জায়গায় মহম্মদ সিরাজ, অক্ষর প্যাটেল ও কুলদীপ য়াদব। এরমধ্যে এদিনই টেস্ট আঙিনায় পথ চলা শুরু অক্ষরের। পরিবর্তন বিরাটের টস-ভাগ্যেও। স্পিন-স্ট্র্যাটেজিতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং দরকার ছিল। সেটাই হল।

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে যদিও জাজমেন্ট দিয়ে বল ছেড়ে শুভমান গিল (০) আউট। পূজারা-রোহিত ৮৫ রানের জুটিতে সামাল দেওয়ার পর জোড়া ধাক্কায় আউট পূজারা (২১) ও বিরাট (০)। বিরাটের ক্ষেত্রে বল রাফে পড়ে বাড়তি টার্ন অ্যান্ড বাউন্স করে। সামলানো কঠিন ছিল।  কিন্তু ব্যাট-প্যাডের মধ্যে বিরাট গ্যাপটা শোভনীয় নয় কোহলির জন্য। আউটের পর  কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। বোঝার চেষ্টা করলেন। ট্রোলও হলেন ইংল্যান্ড সমর্থক দল বার্মি-আর্মির কাছে।

প্রায় বছর খানেক পর ভারতে মাঠে দর্শকদের প্রত্যাবর্তন। সকাল সকাল চিপক ভরিয়েছিলেন (অর্ধেক গ্যালারি) ক্রিকেটপ্রেমীরা। হাতে বড়ো বড়ো ফেস্টুন, প্লাকার্ড। উৎসবের যে মেজাজে সুর কাটে বিরাটের শূন্যতে ফেরা। তবে তা সাময়িক, রোহিতের জন্য প্রথম সেশনে ভারত ১০৬/৩। রোহিতের একারই ৮০! একশোর ওপর স্ট্রাইক রেট রেখে! দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, স্ট্র্যাটেজির সঠিক বাস্তবায়ন ও ম্যাচ রিডিং ক্ষমতা।

ইতিবাচক ব্যাটিং প্রয়োজন। শুধু টিকে থাকলে হবে না। কমেন্ট্রি বক্সে বসে বারবার বলতে শোনা যাচ্ছিল সুনীল গাভাসকারদের। ক্রিজে পা রেখেই যা বোধহয় বুঝে গিয়েছিলেন রোহিত। প্রিয় পুল হোক বা চোখ জুড়োনো অফড্রাইভ অনায়াসে ব্যাট ঘোরালেন। এবং সুইপ স্ট্র্যাটেজি। লিচ-মইনদের লাইন লেংথ বিগড়ে দিলেন। সেট হয়ে রাহানেও যোগ দেন রোহিত-শোয়ে। মাঝের সেশনে আরও ৮৩, কোনও উইকেট হারিয়ে এরমধ্যে নিজের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি পূরণ রোহিতের। শেষপর্যন্ত সুইপেই ইতি পড়ে রোহিত স্পেশালে। ১৮টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে ২৩১ বলে ১৬১। যে দাপটে সঞ্জয় মঞ্জরেকার খুঁজে পেলেন বীরেন্দ্র শেহবাগের ছায়া। ভিভিএস লক্ষ্মণের কথায়, চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে দুরন্ত সেঞ্চুরি।

৮৬/৩ থেকে ২৪৮/৪। রোহিত-রাহানে জুটিতে ১৬২। দূর আশঙ্কার মেঘ। কিছুক্ষণ পর রাহানে (৬৭) বোল্ড মইনের বল মিস করে। আগের ওভারেই আউট হয়ে বেঁচে যান তৃতীয় আম্পায়ারের ভুলে। বল প্যাডে-গ্লাভসে লেগে পোপের হাতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে নটআউট দেন তৃতীয় আম্পায়ার। শেষদিকে সময় নষ্টের অভিযোগ নিয়ে ঋষভ-স্টোকস লেগে যায়। আগামীকাল উত্তাপটা আরও বাড়বে সন্দেহ নেই।