মডেল শ্মশান ঘাট ভেঙে যাওয়ার প্রতিবাদে পলাশবাড়িতে জাতীয় সড়ক অবরোধ

242

পলাশবাড়ি: জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে সনজয় নদীর উপর ডাইভারসন তৈরি করায় পলাশবাড়ির মডেল শ্মশানঘাট ভেঙে যাচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার পলাশবাড়িতে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেস।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলের ঝান্ডা নিয়ে পথ অবরোধ করেন। সেখানে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারাও। এর ফলে আটকে পড়ে প্রচুর যানবাহন। ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সোনাপুর ফাঁড়ির পুলিশ।

- Advertisement -

পরে এলাকায় এসে দলের আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে ও উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির কনভেনার বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সড়ক কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তবে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়। এদিকে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ শ্মশানঘাটের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের সনজয় নদীর পাশে দু’বছর আগে প্রয়াত অনিল অধিকারীর বিধায়ক তহবিলের ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি মডেল শ্মশানঘাট তৈরি করা হয়। এর নাম ‘শেষ খেয়া’। এই শ্মশানঘাটের পাশেই জাতীয় সড়কে রয়েছে সনজয় কাঠের সেতু। এদিকে এই রাস্তায় গত বছর থেকে চলছে চার লেনের মহাসড়কের কাজ।

সেতুটি বেহাল থাকায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ পাশে হিউম পাইপ বসিয়ে একটি ডাইভারসন তৈরি করে। চলতি বর্ষায় ওই ডাইভারসনটি ভেঙে গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ডাইভারসনের হিউমপাইপের জন্য নদীর জল কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। জলের ধাক্কা এসে লাগছে শ্মশানঘাটে। সম্প্রতি জলের তোড়ে শ্মশানঘাটের বোল্ডার বাঁধ ভেঙেছে। দু’দিন আগে ওই শ্মশানঘাটের একপাশের গার্ডওয়াল ভেঙে গিয়েছে। এখন শবদাহ বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়।

এদিন বেলা দুটো থেকে সাড়ে তিনটে পর্যন্ত পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। নেতৃত্বে ছিলেন দলের ব্লক কমিটির নেতা নিখিল পোদ্দার, দলের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি অঞ্চল সভাপতি নিরঞ্জন রায় প্রমুখ। তাঁরা অবশ্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তির জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন। পরে সোনাপুর ফাঁড়ির পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়।

ঘটনাস্থলে এসে দলের ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে বলেন, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় মডেল শ্মশানঘাট ভেঙে যাচ্ছে। বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্য ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার রাস্তায় চলাচল করা যাচ্ছে না। একটি ব্রিজ তিন বছর থেকে ভেঙে রয়েছে। কোথাও রাস্তার উপর দিয়ে জল যাচ্ছে। পলাশবাড়িতে শ্মশানঘাট ভাঙছে। পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।

তবে হিউম পাইপের ডাইভারসনের জন্যই যে শ্মশানঘাট ভেঙেছে তা পুরোপুরিভাবে মানতে চায়নি জাতীয় সড়ক কতৃপক্ষ। ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর প্রজেক্টের জেনারেল ম্যানেজার সমীরণ ঘোষ বলেন, ওখানে ফোর লেনের ব্রিজ হচ্ছে। তাই ডাইভারসন তো তৈরি করতেই হবে। ওই শ্মশানঘাট ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জানি। জল কমে গেলে শ্মশানঘাট সারাই করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার জেলা প্রশাসনিক প্রধান মেহেবুব রহমান বলেন, এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।