রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

32

রাজগঞ্জ: অনেক আবেদন-নিবেদন, আন্দোলন ও ভোট বয়কটের ডাক দেওয়ার পরও মাত্র দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা হয় নি। যার জেরে বৃহস্পতিবার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জটিয়াকালী-গাডরা রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। বাঁশের ব্যারিকেট সহ টায়ার জ্বালিয়ে এলাকার প্রচুর মানুষ বিক্ষোভ দেখান। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত অবরোধের পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। অবশেষে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ ও জয়েন্ট বিডিও ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারিদের আশ্বাস দেন।

জানা গিয়েছে, রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম বালাবাড়ির ওই কাঁচা রাস্তা দিয়ে পাঁচটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। অনেক বছর থেকে রাস্তাটির বেহাল হয়ে থাকায় শুখা মরশুমে ধুলোবালি এবং বর্ষাকালে জলকাদায় নাজেহাল হতে হয় বলে অভিযোগ। এদিন বাসিন্দারা একজোট হয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছর অক্টোবর মাসে রাস্তাটি পাকা করার জন্য টেন্ডার হয় বলে তাঁরা স্থানীয় নেতাদের কাছে শুনেছেন। রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির তরফে সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের(বিএডিপি) মাধ্যমে রাস্তা করার জন্য ওই টেন্ডার করা হয়। পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রৌশন হাবিব টেন্ডার হওয়ার নথিও বাসিন্দাদের দেখান। শিলান্যাসও করা হয়। টেন্ডার হিসেবে পাঁচ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু রাস্তাটি পাকা হয় নি। গতবছরও স্থানীয়রা রাস্তার দাবিতে পথ অবরোধ করেছিলেন। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক মুহুর্তে একই দাবিতে বাসিন্দারা ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন। প্রতিবারই নেতাদের প্রতিশ্রুতি পেয়ে আন্দোলন থেকে বিরত হন। তাঁরপরও রাস্তাটি কেন করা হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

- Advertisement -

অবরোধকারিদের তরফে আব্দুল ইসলাম ও আব্দুল কাদের বলেন, ‘লালস্কুল বালাবাড়ি থেকে পশ্চিম বালাবাড়ির প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে যাবতীয় কাজে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে জলকাদায় নাজেহাল হতে হয়। এবারও তাই হচ্ছে। নেতারা এমনকি প্রশাসনের তরফে একাধিকবার রাস্তাটি পাকা করার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে কাজ করা হয় নি। এলাকায় প্রায় চল্লিশ বছর থেকে বসবাস করছেন। এত বছরেও তাঁরা পাকা রাস্তা পেলেন না।’

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সৌকত আলি বলেন, ‘রাস্তা করার জন্য গত বছর টেন্ডার হয়েছে বলে শুনেছি। এছাড়া আমি বিডিও অফিসেও জানিয়েছি। তাঁরপরও কাজ কেন হচ্ছে না বুঝতে পারছি না।’ এক বাসিন্দা আফসারুল হক বলেন, ‘আমরা স্থায়ী নাগরিক। প্রতিবছর ভোট দিই। আমাদের ভোটে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও বিধায়ক নির্বাচিত হন। তাহলে আমাদের দাবি কেন মানা হচ্ছে না? রাস্তাটি পাকা না হলে আন্দোলন চলতে থাকবে।’ রাজগঞ্জের বিডিও পংকজ কোনার বলেন, ‘টেন্ডার হলেও ওই প্রকল্পে অর্থ না থাকায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আপাতত বেডমিশালি বিছিয়ে দেওয়া হবে।’