বালি বোঝাই লরি যাতায়াতের কারণে বেহাল সড়ক, প্রতিবাদে অবরোধ

177

বর্ধমান: প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি ওভার লোড বালির লরি চলাচলের কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে চার জেলার সঙ্গে সংযোগকারী সড়ক পথ। তারই প্রতিবাদে বুধবার পূর্ব বর্ধমানের রায়না-২ ব্লকের একলক্ষী এলাকার বাসিন্দা সাড়ে চার ঘণ্টা উচালন-একলক্ষী সড়কপথ অবরোধ করে রেখে বিক্ষোভ দেখান। লরি ছাড়া অন্যসব সাধারণ গাড়ির চালকরাও দ্রুত সড়কপথ মেরামতির দাবিতে এদিন গ্রামবাসীদের সঙ্গে পথ অবরোধ বিক্ষোভে সামিল হন। অবরোধের জেরে এদিন ভোর ৫টা থেকে বেলা সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উচালন-একলক্ষী সড়কপথে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি থমকে থাকে। পরে প্রশাসনিক আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। পথ অবরোধ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী একলক্ষী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘উচালন থেকে একলক্ষী পর্যন্ত সড়ক পথের দৈর্ঘ্য ৭ কিলোমিটারের বেশী হবে।

এই সড়কপথ ধরে বর্ধমান, হুগলী, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর জেলায় যাতায়াত করা যায়। হুগলীর আরামবাগের কালিপুরের সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এই সড়কপথ দিয়ে ওভার লোড বালির যাতায়াত অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে। তিন-চার মাস যাবৎ এই সড়কপথ দিয়ে প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি ওভার লোড বালির লরি যাতায়াত করছে। এছাড়াও বেসরকারি যাত্রীবাহী বাস ও অন্য যানবাহনও চলাচল করছে। বিক্ষোভে সামিল সমর পাল বলেন, ওভার লোড বাড়ির লরি অতিরিক্ত মাত্রায় যাতায়াতের কারণে উচালন থেকে একলক্ষী যাওয়ার সড়ক পথ এখন যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। গোটা ৭ কিমি সড়কপথ জুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। রাস্তায় পিচের আর কোনও অস্তিত্ব দেখা যায় না। বালিতে ভরে রয়েছে সড়ক পথ। বালির লরি থেকে ঝরে পড়া জলে সড়ক পথ সবসময়ে ভিজে থাকছে। এমন সড়ক দিয়ে এখন হেঁটে চলা পর্যন্ত দায় হয়ে উঠেছে। অ্যাম্বুলেন্স সহ অন্য গাড়িও এই সড়ক পথ ধরে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে।

- Advertisement -

বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, বেহাল রাস্তার কারণে প্রতিদিন ১০-২০ টি গাড়ি এই সাত কিমি সড়ক পথের কোথাও না কোথাও বিকল হয়ে পড়ে থাকছে। হুগলীর ঘাঁটল নিবাসী  গাড়ি চালক ভাস্কর ঘোষও এদিন একলক্ষীর বাসিন্দাদের সঙ্গে পথ অবরোধ বিক্ষোভে সামিল হন। তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখন এই সড়কপথ দিয়ে তাঁদের গাড়ি চালাতে হচ্ছে। যে কোনও সময়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিক্ষোভকারীরা সকলেই এদিন প্রশাসনের কাছে এই সড়কপথ দ্রুত মেরামতির দাবি জানিয়েছেন। উচালন গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আনিসুর রহমান রাস্তার দুর্দশার কথা স্বীকার করেনেন। তিনি বলেন, হুগলীর আরামবাগের কালিপুরের ব্রিজ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। আনিসুর বাবু জানান, তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন খুব শিঘ্র আরামবাগের কালিপুরের সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তখন উচালন একলক্ষী সড়কে গাড়ির চাপ অনেকটাই কমে যাবে। রাস্তা মেরামতির কাজ তখনই শুরু হয়ে যাবে বলে তিনি জেনেছেন।’ পূর্ত দপ্তরের জেলার এক আধিকারিক বলেন, ‘ওই রাস্তার মেরামতি কাজের প্ল্যান এস্টিমেট হয়ে গিয়েছে। ’পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদ সভাধিপতি শম্পা ধারা বলেন, ‘রাস্তা মেরামতির কাজ শুরুর বিষয়টি নিয়ে তিনি পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। খুব শিঘ্র কাজ শুরুর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।‘