অমিতকুমার রায়, মানিকগঞ্জ, ১২ জুলাই : সংস্কার করার পর ৬ মাস না পার হতেই বেহাল হয়ে পড়েছে এলাকার প্রধান রাজ্য সড়ক। প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বিভিন্ন যানবাহন। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে পথচলতি মানুষ সহ যানবাহন চালকদের মধ্যে। সব কিছু জেনেও নির্বিকার পূর্ত দপ্তর, অভিযোগ স্থানীয়দের।

হলদিবাড়ি থেকে জলপাইগুড়ি পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিমি রাজ্য সড়কের হলদিবাড়ি শহরের দিকের প্রায় ছয় কিলোমিটার রাস্তা তিস্তা ব্রিজ কনস্ট্রাকশন ডিভিশনের অধীন। বাকি প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা জলপাইগুড়ি পূর্ত দপ্তরের অধীনে। আর বর্তমানে এই অংশের রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। কাশিয়াবাড়ি বড়ো ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া এলাকা পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচের চাদর উঠে গিয়ে বড়ো গর্ত তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রতন রায়, নিতাইপদ রায়, যোগেশ বর্মন, প্রীতম মণ্ডল বলেন, পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে রাস্তার মাঝে তৈরি হয়েছে ছোটো-বড়ো অসংখ্য গর্ত। বেরিয়ে এসেছে বালি সহ পাথর। এতে সমস্যায় পড়ছেন নিত্যযাত্রী সহ যানবাহনের চালকরা। বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে সাইকেল, ভ্যান, বাইক নিয়ে চলা যায় না। যাত্রীবাহী গাড়িগুলোও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। মঙ্গলবার আড়াই ট্যাংকি লাগোয়া এলাকায় যাত্রী সহ একটি বাস নয়ানজুলিতে উলটে যায়। ওই দুর্ঘটনায় আহত হন প্রায় ৮০ জন যাত্রী। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

ঘুঘুডাঙ্গার বাসিন্দা সুভাষ দাস, গৌরাঙ্গ রায়, ধীরেন বর্মন বলেন, হলদিবাড়ি ব্লক ও পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ বেরুবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রকল্পের কাজ চলছে। সেই কাজের জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাম্পারে করে নির্মাণসামগ্রী আনা হচ্ছে। আর সেই ডাম্পারে অতিরিক্ত মালবহনের ফলে রাস্তাটির ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতেই রাস্তাটির এমন দশা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ওভারলোড বন্ধে অভিযান চালাক পুলিশ।

এই রুটের বাসের স্টাফ রাজা সিং, তপন রায় বলেন, সড়কের ওপর বিপজ্জনকভাবে পাথরের টুকরো ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে। ফলে যানবাহনের টায়ার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বিভিন্ন গাড়ি। রাস্তার গর্তে গাড়ির চাকা পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ খারাপ হচ্ছে। মালিকপক্ষ বেহাল রাস্তার কারণে এই রুটে গাড়ি চালাতে চাইছেন না। অথচ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। রাস্তার এমন দশার জন্য বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। মাতৃযানচালক মুকুল রায়, বিনোদ সরকার বলেন, বেহাল রাস্তার কারণে রোগীদের সমস্যা হয়। রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালাতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়।

রাস্তাটি প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জলপাইগুড়ি পূর্ত দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা অবহিত আছেন। এই বিষযে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।