ফালাকাটার ২৪ কিমি রাস্তা খারাপ, বিপাকে ৩০ হাজার মানুষ

547

ফালাকাটা : জলদাপাড়া বনাঞ্চল ও কুঞ্জনগর লাগোয়া ফালাকাটার ময়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে বিপাকে পড়তে হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে। শিবনাথপুর থেকে বনাঞ্চলের পাশ দিয়ে কুঞ্জনগর বন দপ্তর ও বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার, লছমনডাবরি থেকে ময়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত হয়ে ফালাকাটা-মাদারিহাট রাজ্য সড়কের পাঁচ মাইল পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার ও লছমনডাবরি থেকে ছয় মাইল অবধি আরও সাত কিলোমিটার রাস্তা প্রায় ৪-৫ বছর ধরে খারাপ। তিনটি মাটির রাস্তা পাকা করার জোরালো দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা। ময়রাডাঙার পাশাপাশি ব্লকের শালকুমার গ্রাম পঞ্চায়েতেরও কিছু বাসিন্দা এই রাস্তাগুলি দিয়ে চলাচল করেন। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ময়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে এই তিনটি রাস্তা পাকা করা সম্ভব নয়। জেলা পরিষদের কাছে এই রাস্তাগুলি পাকা করার প্রস্তাব পাঠানো রয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শেফালি নট্ট বলেন, ‘জেলা পরিষদের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাছে ময়রাডাঙার ওই রাস্তাগুলি পাকার প্রস্তাব পাঠানো রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলেই কাজ শুরু হবে।’

কুঞ্জনগর প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রটি ময়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন। কিছুটা পর্যটন নির্ভর হলেও এই গোটা গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষি অর্থনীতি ভালোই মজবুত। এই এলাকার কৃষকরা ফালাকাটার কিষান মান্ডির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু শিবনাথপুর থেকে কুঞ্জনগর হয়ে কিষান মান্ডি যাওয়া-আসার প্রায় দশ কিলোমিটার রাস্তা বেহাল থাকায় কৃষকদের প্রতি মুহূর্তে সমস্যায় পড়তে হয়। শীতের শুরুতেই সবজির মরশুমে জমির উৎপাদিত ফসল অনেকটা ঘুরপথে কিষান মান্ডিতে নিতে পরিবহণ খরচও বেশি হচ্ছে এলাকার কৃষকদের। এজন্য বহুদিন থেকেই কৃষকরা ময়রাডাঙার রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

- Advertisement -

ফালাকাটার পাশাপাশি এই ময়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ বাসিন্দার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে পাঁচ মাইল বাজারের সঙ্গে। পাশের শালকুমার গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু গ্রামের বাসিন্দাও ময়রাডাঙা হয়ে পাঁচ মাইল বাজারে যাওয়া-আসা করেন। লছমনডাবরি-পাঁচ মাইল রাস্তার মাঝামাঝিতে ময়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর। তাই এই বেহাল রাস্তা ধরে গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরেও নিয়মিত হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। মাদারিহাট, জয়গাঁ যাওয়ার ক্ষেত্রে লছমনডাবরি থেকে ছয় মাইল যাওয়ার রাস্তাটি দিয়েও ব্যবসায়ী সহ স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করেন। এছাড়াও এলাকার স্কুল ও কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের এই বেহাল রাস্তাগুলির কারণে নিয়মিত সমস্যায় পড়তে হয়। মাটির রাস্তা হওয়ায় টোটো বা অটোর মতো ছোটো যানবাহনও সেভাবে চলাচল করে না। ফালাকাটায় স্কুল,কলেজে যেতে পড়ুয়াদের ভরসা একমাত্র সাইকেল বা মোটর বাইক।

এই তিনটি মিলে মোট ২৪ কিমি রাস্তা যে পাকা করা খুবই প্রয়োজন তা মেনে নিয়েছেন ময়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ভবানী বর্মন। তিনি বলেন, ‘গ্রাম পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ এই তিন রাস্তা পাকা না হওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরাও চাই রাস্তাগুলি পাকা হোক। কারণ এই রাস্তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গ্রামের কৃষি অর্থনীতি। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমিত ফান্ড থেকে এইসব রাস্তা পাকা করা সম্ভব নয়।’  আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে বলেন, ‘পুজোর আগেই জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দে বেশ কিছু পাকা রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। ময়রাডাঙার ওই তিন রাস্তার প্রস্তাব পাঠানো থাকলে অবশ্যই কাজ হবে।’

ছবি :ফালাকাটার ময়রাডাঙার শিবনাথপুর-কুঞ্জনগর বেহাল রাস্তা।

তথ্য ও ছবি : সুভাষ বর্মন