জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি সড়ক বেহাল টেন্ডার হলেও কাজ হচ্ছে না

318

জলপাইগুড়ি : টেন্ডার ডেকেও বেহাল রাস্তা সংস্কার করতে পারছে না পূর্ত দপ্তর। এদিকে, জলপাইগুড়ি ও হলদিবাড়ির মধ্যে বেহাল রাস্তা নিয়ে দিনের পর দিন ক্ষোভ বাড়ছে। সামনেই বর্ষা। তার আগে রাস্তা মেরামত না হলে  পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেন পূর্ত দপ্তর রাস্তা করতে পারছে না তা নিযে পূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ। আর স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাস্তা দ্রুত সারানোর জন্য তাঁরা জেলা শাসকের দ্বারস্থ হবেন।

দুই জেলার মধ্যে প্রধান সংযোগকারী জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি রাজ্য সড়কের বেহাল দশায় অতিষ্ঠ দুই শহরের মানুষ। রাস্তায় যেখানে-সেখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওযায় সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। এদিকে, ছয়মাস আগে টেন্ডার ডেকেও কাজ শুরু করতে না পারায় রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। মেখলিগঞ্জে তিস্তা নদীর উপর নির্মীয়মাণ সেতুর জন্য নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের ডাম্পার চলাচলের ফলে রাস্তার ক্ষতি প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।

- Advertisement -

জলপাইগুড়ি শহর থেকে বেরিযে পান্ডাপাড়া পার্কের মোড়ের পর থেকে এই রাস্তার অবস্থা খারাপ হতে শুরু করেছে। জলপাইগুড়ি শহরতলি, তোড়লপাড়া, রাখালদেবী, ধাপগঞ্জ, কোনপাকুড়ি, বেরিবাড়ি এবং হলদিবাড়ির কাশিযাবাড়ি থেকে হলদিবাড়ি পর্যন্ত এই ২৬ কিমি রাস্তা বিক্ষিপ্তভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

তোড়লপাড়ার বাসিন্দা মানিক দে বলেন, ‘তিস্তা নদীর উপর সেতু তৈরির সামগ্রী নিয়ে ৮-১৬ চাকার ডাম্পারগুলি প্রতিদিন গড়ে ৩০টি করে চলাচল করছে। ফলে গত বছর বর্ষার পর থেকে খারাপ হয়ে আসা এই রাস্তা আরও খারাপ হয়েছে। জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা হীরেন রায় বলেন, ‘কেন পূর্ত দপ্তর টেন্ডার ডেকেও রাস্তা করতে পারছে না। রাজ্য সরকার টাকা দিলেও কেন কাজ হচ্ছে না, তা জানতে আমরা নাগরিকদের নিয়ে জেলা শাসকের কাছে যাব।’

জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা আমার নজরে এনেছেন। কিন্তু জেলা পরিষদের সামর্থ্য নেই। তাই পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে  কথা বলে দ্রুত রাস্তা মেরামতের বিষয়ে উদ্যোগী হব।’ জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এটা ঠিকই জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি সড়কের অবস্থা এখন ভালো নেই। প্রয়োজনে জেলা শাসকের সঙ্গেও কথা বলব।’

জলপাইগুড়ির পূর্ত দপ্তরের কার্যনির্বাহী বাস্তুকার কেশব গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘ছয়মাস আগে জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি সড়কের টেন্ডার ডাকা হয়েছে। রাস্তাটি চওড়া করে মজবুত করতে ২৬ কিমির জন্য ৩৮ কোটি টাকা ধরা আছে। কিন্তু একটি সরকারি নির্দেশের অপেক্ষায় থেকে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি উপর মহলে জানিয়েছি। যদিও গর্ত মাঝেমধ্যে মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে।’

জেলা শাসক অভিষেক তিওয়ারি বলেন, ‘আমি উদ্যোগী হয়ে শহরের করলা সেতুর উপর পূর্ত দপ্তরকে দিয়ে সমীক্ষা করাচ্ছি। কিন্তু জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ির মধ্যে এই সড়ক নিযে পূর্ত দপ্তরের কাছে জানতে চাইব, কেন রাস্তার কাজ হচ্ছে না। যাতে হয় তা দেখব।’

তথ্য ও ছবি- পূর্ণেন্দু সরকার