১৭ বছরেও রাস্তায় পিচের প্রলেপ পড়েনি

266

ধূপগুড়ি : ২০০২ সালে পুরসভায় উন্নীত হওয়া থেকে এপর্যন্ত সতেরো বছরে ষোলটি ওয়ার্ডের ধূপগুড়ি পুর এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ণে কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করেছে চারটি পুরবোর্ড। রাস্তা, ব্রিজ, পানীয় জল, আলো নানা ক্ষেত্রে একটি শহরতলিকে ছোট পুর শহর হিসেবে গড়ে তোলার কাজ হয়েছে। কিন্তু  শহরের বুকে এমন কিছু এলাকা রয়েছে যেখানে গত দেড় দশকের বেশি সময়ে উন্নয়নের ন্যূনতম ছোঁয়া লাগেনি। পুর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গলপাড়া এলাকায় এমন রাস্তা রয়েছে যেখানেএই ১৭ বছরে বিটুমিন, ম্যাস্টিক নিদেনপক্ষে কংক্রিটের চাদরটুকুও পড়েনি কোনো অজানা কারণে। অথচ শহরের ব্যস্ত এলাকা এড়িয়ে এই পথটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে সামান্য নজর দিলেই। অথচ একই ওয়ার্ডের ভাওয়ালপাড়ায় চওড়া বিটুমিন রাস্তা এবং ড্রেন রয়েছে। অন্যদিকে পাশের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কামাতপাড়া এলাকা অবধি রয়েছে বিটুমিনের রাস্তা। অথচ প্রায় আশ্চর্যের মতোই এই দুই এলাকার মাঝে দেড় কিলোমিটার রাস্তায় পুর প্রশাসনের নজর পড়েনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এপর্যন্ত এই ওয়ার্ডে যে চারজন কাউন্সিলার নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা সকলেই ওয়ার্ডের একেবারে অন্য প্রান্তের বাসিন্দা। ফলে বরাবরই এই এলাকাটি উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। উল্লেখ্য বর্তমানে যিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলার তাঁর বাড়িও এই ওয়ার্ডে হলেও এই এলাকা থেকে তার দূরত্ব প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, শুধু রাস্তা বা নিকাশিনালা নয় সরকারি প্রকল্পে ঘর প্রাপকের সংখ্যাও ওয়ার্ডের এই অংশে তুলনায় অনেক কম।

এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ মন্ডল বলেন, ‘যখন যিনি কাউন্সিলার ছিলেন তাঁর কাছেই আমরা রাস্তা এবং ড্রেনের জন্য আবেদন জানিয়েছি। বাইরে থেকে নেতারা এলে তাঁদের বলেছি বহুবার। তবে আজ অবধি কিছুই হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায় এই পথ। ২০১৫ সালে এলাকায় একটি জলের রিজার্ভার করে পুরসভা। তখন ভেবেছিলাম হয়তো এবারে রাস্তা এবং পাকা ড্রেন হবে। তবে আজ অবধি তাও হয়নি।’ এলাকার সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলার জয়ন্তী রায়ও। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকার মানুষের সমস্যার কথা জানি। দুবছর হল কাউন্সিলার হিসেবে কাজ করার সুবাদে ওই রাস্তাটি নিয়ে অন্তত পাঁচ বার সোচ্চার হয়েছি পুরসভায়। ব্যক্তিগতভাবে এই পথটির বিষয়ে কথা বলেছি চেয়ারপার্সন এবং ইঞ্জিনিয়রদের সঙ্গেও। কিন্তু একজন কাউন্সিলার হিসাবেও শুকনো আশ্বাসের বেশি পাইনি। আমি আবার এই বিষয়টি নিয়ে দাবি তুলব। ওখানে দুপাশে পাকা ড্রেন সহ বিটুমিন রাস্তা গড়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেব।’

- Advertisement -

পুরসভার চেয়ারপার্সন ভারতী বর্মন বলেন, ‘এলাকাটি কেন রাস্তা ও ড্রেন পায়নি তা আমরা দেখব। প্রয়োজনে এলাকাবাসীর সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব এবং তাদের চাহিদামতো কাজ হবে।’

ছবি : ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচা রাস্তা।

তথ্য ও ছবি : সপ্তর্ষি সরকার