ভেঙে পড়া সেতু নির্মাণ না হওয়ায় বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, আসে না অ্যাম্বুলেন্স

129

ফাঁসিদেওয়া, ৯ ফেব্রুয়ারিঃ ভেঙে পড়া সন্ন্যাসী নদীর পাকা সেতু পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় একাধিক গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। সমস্যার কারণে পৌঁছায় না অ্যাম্বুলেন্সও। অভিযোগ, এরজেরে মৃত্যু হয়েছে রোগীর। তবুও, হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের। গত বর্ষায় জলের তোড়ে ওই নদীর ওপর থাকা সেতুটি ভেঙে পড়েছিল। ফাঁসিদেওয়া ব্লকের হেটমুড়ি সিংহীঝোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবডাঙ্গী সংলগ্ন স্থানীয় একাধিক গ্রামের প্রায় হাজার পাঁচেক মানুষ দৈনিক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ঝুঁকি নিয়ে নদী পেরিয়ে অব্যাহত যাতায়াত। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে যান চলাচলও। ঘটনার পর প্রশাসনিক আধিকারিকরা কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গিয়েছেন। কিন্তু, সেতু পুনরায় নির্মাণ নিয়ে প্রশাসনের কোনও উদ্যোগ না থাকায়, স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এনিয়ে ২ বার স্থানীয় মহিলারা ফাঁসিদেওয়া বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অবিলম্বে, নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। হেটমুড়ি সিংহীঝড়ো গ্রাম পঞ্চায়েতের সদ্য প্রধান দেওয়ান লিম্বু জানিয়েছেন, এত বড়ো সেতু গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সেতু নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন, শিবাডাঙ্গী এলাকায় সেতু নির্মাণের প্রস্তাব জেলায় পাঠানো হয়েছে। তবে, ওই সেতু তৈরি করতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন তা বিডিও অফিসের পক্ষে সম্ভব নয়৷ তাই, স্থানীয়দের দাবি মতো গ্রাম পঞ্চায়েতের অর্থে অস্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা দ্রুত তৈরি করে দেওয়া হবে।

জানা গিয়েছে, ২০০০ সাল নাগাদ নদীর ওপর ৫০ ফুট দীর্ঘ কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। মূলত ওই সেতুই নদীর দুই ধারে শিবডাঙ্গী, তারবান্দা, ডিগরাভিটা, ছোট বাঁওকালি, বৈরাগীনি, কামরাঙ্গাগুড়ি, তুড়িভিটা সহ একাধিক গ্রামের মানুষ যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। বিভিন্ন গ্রামের থেকে প্রায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ এবং গাড়ি যাতায়াত করেন। একাধিক গ্রামের ৩ ধারে নদী এবং একধারে বাগডোগরা বিমানবন্দর। প্রায় ২০১৭ সাল নাগাদ ওই সেতুটি মাঝ বরাবর ভেঙে বসে গিয়েছিল। প্রায় ২ বছর স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়েই সেতু পারাপার করতেন। গত বছর ১৬ জুলাই নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎই সেতুটি মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই নদী পেরিয়ে যাতায়াত করছেন মানুষজন। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা আরও গুরুতর। সেতু ভেঙে পড়ার পর অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস মিলেছিল ঠিকই, কিন্তু, তাও বাস্তবায়িত হয়নি। এখন অ্যাম্বুলেন্সও ওই পথে আসে না। ফলে, জরুরি পরিষেবা থেকে একরকম বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি, তুড়িভিটার বাসিন্দা বিজয় মিঞ্জের মা রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে, অনেক ডাকাডাকির পরও আসেনি অ্যাম্বুলেন্স। যতক্ষণে, চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছেছেন মায়ের শরীরে আর প্রাণ ছিল না। প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে, সেতু নির্মাণের দাবিতে সরব এলাকার সাধারণ মানুষ।

- Advertisement -

বিজয় মিঞ্জ জানিয়েছেন, তাঁর মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাকে নদী পার করেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত মাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সঠিক সময় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে, তাঁর মা প্রাণে বেঁচে যেতে পারতেন বলে তিনি দাবি করেন। সেতু না থাকায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক আধিকারিকরা এসে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে কোনও কাজ হয়নি। এলাকার মানুষ রীতিমতো হয়রানির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা তপন রায় বলেন, মহিলারা নদী পেরিয়ে এপারে আসতে পারছেন না। স্কুল খুলে গেলে ছাত্ররাও সমস্যায় পড়বেন। রাজনৈতিক নেতারা আসেন, শুধু ভোট চাইতে। মানুষের সমস্যার সমাধান হয় না। গ্রামের একজন এই সেতু না থাকায়, দেরিতে চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন। পরে, তাঁর মৃত্যু হয়। বিডিও অফিসে এসে অনুপমা টিগ্গা বলেন, এভাবে নদী পেরিয়ে বেশিদিন যাতায়াত করা সম্ভব নয়। নদীতে জল বাড়লেই, গ্রামে বন্দী হয়ে থাকতে হবে এলাকাবাসীকে। তাই আমরা বিডিও-র কাছে নতুন সেতু তৈরির জন্য ২ বার এসেছিলাম। তবে, বিডিও আপাতত অস্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন। গ্রামের আরেক বাসিন্দা জানান, সেতু ভেঙে যাওয়ার সময় গ্রামে প্রায় ৬ জনের বেশি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও গ্রামবাসীকে ব্যাপক বেগ পেতে হয়েছিল। গ্রামের প্রায় সকলেই নদীর ওপর দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।