পাঁচ বছরে হাল ফেরেনি পানিকৌরির রাস্তার

বেলাকোবা : বেলাকোবার পানিকৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলাকোবা-ফাটাপুকুর রাজ্য সড়কের বুড়িবাড়ি মোড় থেকে চৌধুরীভাটা ভদ্র মোড় পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। ৫ কিলোমিটার এই রাস্তার উপরে প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দা নির্ভর করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পিচের চাদর উঠে সড়কে ছোট বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে, টোটোচালকরাও এই রাস্তায় যাতায়াত করতে রাজি হন না। প্রশাসনকে জানিয়ে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০০৯ সালে তৈরি এই সড়কটি প্রায় পাঁচ বছর বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই রাস্তার উপরে স্থানীয় চৌধুরীভিটা, চান্দারবাড়ি, ঠকপাড়া, কাওয়ারবাড়ি, হাসুয়াপাড়া সহ আরও ৫-৬টি গ্রামের ১৫ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা নির্ভর করেন। এই রাস্তা দিয়ে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, চা কারখানা, সার কারখানায় যাতায়াত করতে হয়। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এই রাস্তা ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কৃষিপ্রধান এই এলাকায় উৎপাদিত ফসল হাটে-বাজারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষকরা সমস্যা পড়েন। স্থানীয় গুলুকান্ত হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রসূনকান্তি দে বলেন, স্কুলের বহু পড়ুয়াই ওই রাস্তা দিয়ে সাইকেলে স্কুলে আসে। বেহাল সড়কে বহু পড়ুয়াই দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। স্কুলের শিক্ষিকা সোমা দাস, কাকলি সরকার, টুম্পা ঘোষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন আগেই বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

- Advertisement -

স্থানীয় ব্যবসায়ী সোমেন রায়, বাসিন্দা বেনীমাধব রায়, দিলীপ রায়দের বক্তব্য, ব্লকে একাধিক রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। অথচ তাঁদের এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল পরিচালিত স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান আলাপ রায় বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদের সভাধিপতি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে বলেছি। তাঁদের কথা মতো পঞ্চায়েতের তরফে যাবতীয় কাগজও জমা দিয়েছি। গ্রামবাসীরা আমাকে প্রশ্ন করছেন। কিন্তু এত বড় কাজ পঞ্চায়েতের পক্ষে করা সম্ভব নয়। পঞ্চায়েতের সব স্তরে আমরাই ক্ষমতায় থাকলেও এই রাস্তাটির দিকে কারও নজর নেই। এ প্রসঙ্গে সভাধিপতি উত্তরা বর্মণ বলেন, আমি রাস্তাটি দেখেছি। এই কাজটি বাংলা সড়ক যোজনায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু এখনও অনুমোদন মেলেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।