নির্মীয়মাণ কালভার্টের পাশের রাস্তা জলমগ্ন, চলাচলে সমস্যা

নয়ারহাট : নির্মীয়মাণ স্ল্যাব কালভার্টের পাশের সংযোগ রাস্তা টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হওয়ায় যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার পথচলতি সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাইক ও টোটোচালকরা। কোমরজল ভেঙে যাতায়াত করতে হচ্ছে মহিলা ও শিশুদেরও। অনেকে টাকা খরচ করে কলার ভেলায়ও পারাপার হচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। দুদিন ধরে এই অবস্থা থাকলেও সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগী হয়নি বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় ক্ষোভের পারদ চড়ছে মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের নয়ারহাট বাজার সংলগ্ন খাগরিবাড়ি এলাকায়। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। যদিও ঠিকাদারি সংস্থার তরফে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নয়ারহাট-শিকারপুর পাকা রাস্তায় স্থানীয় নালার ওপর কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়নমন্ত্রক ও রাজ্য সরকারের অর্থে কিছুদিন আগেই ওই স্ল্যাব কালভার্ট তৈরির কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১০ দিনের মধ্যেই কালভার্টের ওপর দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারবেন বলে ঠিকাদারি সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। কিন্তু গোল বেধেছে সংযোগকারী রাস্তাটি নিয়ে। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে সংযোগকারী রাস্তার উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করায় নরকয়ন্ত্রণার শিকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় যুবক সুজন বর্মনের অভিযোগ, দুদিন ধরে যাতায়াতে কষ্ট ভোগ করলেও ঠিকাদারি সংস্থা ও প্রশাসনের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। উঁচু করে সংযোগকারী রাস্তা তৈরি করলে এই অবস্থা হত না। আরেক যুবক প্রবীর বর্মনের কথায়, অপরিকল্পিতভাবে ডাইভারশন তৈরি করায় আমাদের ভোগান্তি বেড়েছে। কোমরজল ভেঙে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। ধনঞ্জয় বর্মন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আন্দোলনে নামব।

- Advertisement -

স্থানীয় সুধীর বর্মনের অভিযোগ, ডাইভারশন তৈরিতে ঠিকাদারি সংস্থার পরিকল্পনার অভাব ছিল। তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কালভার্ট তৈরিতেও ঢিলেমি করা হচ্ছে। এই পথে নয়ারহাটের পাশাপাশি কেদারহাট ও গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রচুর মানুষ যাতায়াত করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঠিকাদারি সংস্থার নজরে আনার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধান মহেশচন্দ্র বর্মন এবং পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মজিরুল হোসেন। ঠিকাদারি সংস্থার তরফে চঞ্চল বর্মন এদিন বলেন, এই মুহূর্তে সম্ভব না হলেও জল কমলেই সংযোগকারী রাস্তা উঁচু করা হবে। কাজে ঢিলেমির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন চঞ্চলবাবু।