রাজগঞ্জে জমি দখলদারি অব্যাহত, এসএসকে-তে যাতায়াতের রাস্তায় প্রাচীর

225

রাজগঞ্জ : রাজগঞ্জে জমি দখলদারি থামার লক্ষণ নেই। এবারে প্রাচীর তুলে একটি শিশুশিক্ষাকেন্দ্রে (এসএসকে) যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। মগরাডাঙ্গি শিশুশিক্ষাকেন্দ্র নামে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এলাকার ভোটগ্রহণ কেন্দ্রও বটেও। করোনা পরিস্থিতির জেরে এখন না হয় স্কুল বন্ধ। কিন্তু স্কুল খোলার পর তাঁদের ছেলেমেয়েরা কীভাবে এসএসকে-তে যাবে তা ভেবে অভিভাবকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। জমি মাফিয়াদের দাপটে উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর একমাস গড়িয়ে গেলেও সমস্যা মেটাতে প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এর জেরে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজগঞ্জের বিডিও এনসি শেরপা বলেন, ডিএলএলআরও-কে দিয়ে তদন্ত করে দেখা গিয়েছে ওখানে কোনও রাস্তা ছিল না। তবে পঞ্চায়েত সমিতি শিক্ষা স্থায়ী সমিতির বৈঠকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা রায় বলেন, বহুদিন ধরে চলা একটি এসএসকে-তে যাতায়াতের রাস্তা এভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে তা কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। শীঘ্রই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করব।

- Advertisement -

রাজগঞ্জের পানিকৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মগরাডাঙ্গি শিশুশিক্ষাকেন্দ্রটি ২০০০ সালে স্থাপিত হয়। পঞ্চায়েত সমিতির তরফে একটি ঘরও তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এই শিক্ষাকেন্দ্রটি ১০ নম্বর সংসদের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রও বটে। প্রায় ১,৩০০ ভোটার এখানে ভোট দেন। করোনা পরিস্থিতির জেরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে জমি মাফিয়ারা এসএসকে-তে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে পাশের জমির সীমানাপ্রাচীর তুলছে বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাকেন্দ্রের ইনচার্জ হাসি দেব বলেন, বর্তমানে এসএসকে বন্ধ থাকলেও প্রতি মাসে মিড-ডে মিল চালু রয়েছে। স্কুল খোলার পর আমরা ও শিশুরা কীভাবে এসএসকে-তে যাতায়াত করব তা ভেবে আমরা উদ্বেগে রয়েছি। বিষয়টি বিডিও-কে জানিয়েছি। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তথা সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা বিজেপির দীপক মণ্ডল বলেন, মগরাডাঙ্গি শিশুশিক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য পাঁচ ফুট চওড়া একটি রাস্তা ছিল। এছাড়া এসএসকেটি এলাকার ভোটগ্রহণ কেন্দ্রও বটে। জমি মাফিয়ারা ওই এসএসকে-তে যাতায়াতের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়ে সেখানে প্রাচীর তুলেছে। স্কুল খুললে শিশুরা ওই এসএসকে-তে যাতায়াতে সমস্যায় পড়বে। বিষয়টি লিখিতভাবে বিডিও-কে জানানো হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কাজ থামেনি। সমস্যা মেটাতে তিনি অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।