একবছর পেরোলেও শুরু হয়নি কাজ, পুজোর আগে আন্দোলনের ভাবনা সীমান্তবাসীর

290

চ্যাংরাবান্ধা: চ্যাংরাবান্ধা স্থল বন্দর এলাকায় ব্যস্ততম ভিআইপি মোড় থেকে বাজারের বাসস্ট্যান্ড অবধি পাকা রাস্তার দুপাশ চওড়া করার বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি অনেকদিনের। তাঁরা চাইছেন, ব্যস্ততম এই রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি রাস্তার দুপাশে হাইড্রেনও তৈরি করা হোক। কিন্তু তাঁদের এই দাবি পূরণ না হওয়ায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

তাঁদের অভিযোগ, এইসব দাবির কথা তাঁরা লিখিত ও মৌখিকভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার জানিয়েছেন। এরপর সংশ্লিষ্ট তিস্তা ব্রিজ কনস্ট্রাকশন ডিভিশনের তরফে এবিষয়ে মাপজোখের কাজও করা হয়েছে। এরপর দ্রুত কাজ শুরুর বিষয়ে আশ্বাস মেলার প্রায় এক বছর পরেও কাজের কোনও নমুনা তাঁরা দেখতে পারছেন না।

- Advertisement -

তাই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা পুজোর আগে ফের এনিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই রাস্তা দিয়ে শুধু যাত্রীবাহী বাসই নয়, বাংলাদেশে পণ্য পরিবহন করা ট্রাকও যাচ্ছে। রাস্তা চওড়া না থাকায় দুপাশ থেকে যানবাহন এলে মাঝেমধ্যে ব্যাপক যানজট বেঁধে যাচ্ছে। রাস্তার পাশেই দুটি ব্যাংক থাকায় গ্রাহকদের পাশাপাশি নিত্যযাত্রী, সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। যাত্রীবাহী বাস বাজারে নিয়ে যেতে এবং সেখানে বাস ঘোরাতেও সমস্যা হচ্ছে বলেও কয়েকজন বাসকর্মী জানিয়েছেন।

পাশাপাশি রাস্তার পাশ থেকে জবরদখল মুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরাও। তাঁরা জানান, রাস্তা তুলনামূলক সরু থাকার কারণে যানজট লেগেই রয়েছে। যে কারণে ক্রেতাদের অনেকেই বাজারমুখি হতে চান না। এতে তাদের দোকানের বিক্রি কমে গিয়েছে।বর্তমানে রাস্তা কিছু জায়গায় বেহালও হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত রাস্তাটি চওড়া করার দাবি তাঁরা জানিয়েছেন।

চ্যাংরাবান্ধা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মিতুল সাহা বলেন, ভিআইপি মোড় থেকে বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি চওড়া এবং রাস্তার পাশে হাইড্রেন তৈরির দাবির কথা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে বলা হচ্ছে। কিন্তু আশ্বাস মিললেও কোনও কাজ হচ্ছেনা। কেন এবিষয়ে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। প্রশাসন উদ্যোগী না হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে যানজটের কারণে চলাচল করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দাবির ভিত্তিতে ফের প্রশাসনের দ্বারস্থ হব।

দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সিপিএমের মেখলিগঞ্জ ২ নং এরিয়া কমিটির সম্পাদক দীপক গুহও। দীপকবাবু জানান, সীমান্ত স্থলবন্দর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দ্রুত চওড়া করা খুবই দরকার। কারণ রাস্তাটির গুরুত্ব দিনদিন বাড়ছে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে অনেকেই যানজটের কারণে এই রাস্তা দিয়ে ভয়ে ভয়ে চলাচল করছেন। দাবির ভিত্তিতে তাঁরাও ফের প্রশাসনকে জানাবেন।

তিস্তা ব্রিজ কনস্ট্রাকশন ডিভিশনের এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, ওই রাস্তাটি চওড়া করার বিষয়ে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা তৈরি করে রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন এলে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ হলেই কাজ শুরু করতে কোনও সমস্যা হবে না।