পাকা রাস্তার দাবিতে ফের আন্দোলনের পথে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চিতিয়ারডাঙ্গা গ্রামের মানুষ

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: রাস্তা পাকা করার বিষয়ে মিলেছে অনেক প্রতিশ্রুতি। কিন্তু আজ অবধি পাকা রাস্তার কাজ শুরু করা হয়নি। যা নিয়ে ফের ক্ষোভে ফুঁসছেন মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ১৫৭ জামালদহ চিতিয়ারডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা।

তাঁদের বক্তব্য, গ্রামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি জন্মলগ্ন থেকেই পাকা করার দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে বর্ষায় মাটির এই রাস্তাটি জল কাদায় পুরো বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে চলাচল করাই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও জল কাদার জন্য অনেকে হাট বাজারে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ জল কাদার উপর দিয়ে চলতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই পথচারী, সাইকেল কিংবা বাইক আরোহী হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছেন, দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

- Advertisement -

বেহাল রাস্তার প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নিজেদের মধ্যে গোপনে বৈঠকও করেছেন। সেখানে এটা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি দু-একদিনের মধ্যে লকডাউনের নিয়ম মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, পাকা রাস্তার দাবিতে লোকসভা ভোটের আগেও গ্রামের মানুষ জোটবদ্ধভাবে ভোট বয়কট আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিলেন।

এরপরই অবশ্য প্রশাসনের তরফে ওই এলাকা পরিদর্শন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই আশ্বাস পেয়ে ভোট বয়কট আন্দোলন থেকে সরে আসেন গ্রামবাসী। কিন্তু এরপরও মাসের পর মাস কেটে গেলেও পাকা রাস্তা না হওয়ায় ফের ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন তাঁরা। আন্দোলনও গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

কোচবিহার জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট এলাকার সদস্যা প্রতিমা দেব অবশ্য বলেন, চিতিয়ারডাঙ্গা গ্রামের ওই মাটির রাস্তাটি পাকা করার জন্য টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। লকডাউনের জন্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।বর্তমানে বর্ষাকাল চলছে। এই বিষয়টিও ভাবতে হবে। তবে শীঘ্রই পাকা রাস্তার কাজ শুরুর বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

উল্লেখ্য, চ্যাংরাবান্ধা মাথাভাঙ্গা সড়কের পাশে কালীবাড়ি থেকে একটি রাস্তা চিতিয়ারডাঙ্গা গ্রামের দিকে গিয়েছে, যে রাস্তাটি চ্যাংরাবান্ধা এবং উছলপুকুড়ি এই দুটি গ্রামের মধ্যে সহজপথে যোগাযোগ রক্ষা করেছে।কালীবাড়ি মোড় থেকে সুটুঙ্গা সেতু অবধি প্রায় দেড় কিমি এই রাস্তাটিই পাকা করার দাবি তুলেছেন চিতিয়ারডাঙ্গা গ্রামের মানুষেরা।

তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন থেকে রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। কয়েকবছর আগে বালি ও পাথর বিছানো হলেও বেশিরভাগ জায়গা থেকেই পাথর উঠে গিয়েছে। বর্ষায় রাস্তার একাধিক জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।এবড়ো খেবরো এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রামের মানুষজনকে। বর্ষায় দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষকরে কোনও জরুরী রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে দারুণ সমস্যা হচ্ছে।

কৃষিনির্ভর এই এলাকার মানুষকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সঠিকসময়ে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেশি হচ্ছে। এতে আর্থিক দিক দিয়ে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। গ্রামে প্রায় দুহাজার ভোটার রয়েছেন। বেহাল রাস্তা নিয়ে অসন্তুষ্ট প্রায় সকলেই। গ্রামবাসীরা জানান, বেহাল রাস্তা দিয়ে ছোট ছোট স্কুল পড়ুয়াদেরও বিদ্যালয়ে যেতেও সমস্যা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এবার কেউ মিথ্যা আশ্বাস দিতে এলে তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। গ্রামবাসী সুবলচন্দ্র মণ্ডল, রামচরণ মণ্ডল প্রমুখ বলেন, গ্রামের একমাত্র এই রাস্তাটির অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। সমস্যা সমাধানের দাবির কথা নানা মহলে একাধিকবার জানানো হয়েছে কিন্তু কোনও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা হতাশ। বেহাল রাস্তা পাকা করা নিয়ে স্থানীয়দের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সবিতা বিশ্বাস জানিয়েছেন।