লোকাল ডনের হুমকিতে রাস্তার কাজ বন্ধ মাদারিহাটে

454

নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : ‘লোকাল ডন’-এর হুমকির জেরে রাস্তার কাজ শুরু করেও বন্ধ করতে বাধ্য হলেন ঠিকাদার। মাদারিহাটের টোটোপাড়া মোড় থেকে হান্টাপাড়া পর্যন্ত পূর্ত দপ্তরের রাজ্য সড়ক মেরামতের দায়িত্ব পেয়েছেন গোপাল শীল নামে শিলিগুড়ির এক ঠিকাদার। গত সপ্তাহে তিনি কাজ শুরু করার পরই তুলসীপাড়া ও সংলগ্ন এলাকার ‘ডন’-এর জনা চল্লিশেক ছেলে এসে হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগ। কাজ করতে হলে আগে আলোচনায় বসতে হবে, না হলে কাজ করা যাবে না- এমনই নিদান দিয়েছে ‘লোকাল ডন’। কিন্তু কেন আলোচনা, কীসের আলোচনা সেই প্রশ্ন তুলেছেন গোপালবাবু। তাঁর কথায়, আগে কাজ শেষ হোক। কাজের মান খারাপ হলে ওঁরা বলতে পারেন। কিন্তু এখনও তো কাজ এগোয়নি। তাহলে কীসের আলোচনা? তাঁর সাফ কথা, মান খারাপ হলে সেটা দেখার জন্য ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন। তাই ঘটনার কথা তিনি ইঞ্জিনিয়ারকে জানিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন। পূর্ত দপ্তরের ফালাকাটার বাস্তুকার সুব্রত সরকার জানান, ঠিকাদার আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। লিখিতভাবে জানালে তিনি পুলিশ সহ সব জায়গায় অভিযোগ জানাবেন।

৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা। সমস্ত নিয়ম মেনেই কাজের বরাত পেয়েছেন গোপাল শীল। কিন্তু শুরুতেই বাধা পেতে হচ্ছে তাঁকে। সূত্রের খবর, বেশ কয়েক বছর ধরে মাদারিহাটে ‘ভাই’-দের দৌরাত্ম্য বেড়ে গিয়েছে। স্থানীয় কিছু যুবকের সহযোগিতায় তারা আরও বেশি সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে। আর এদের মাথার উপর বসে রয়েছে ‘লোকাল ডন’। এই ভাই এবং ডনের অনুমতি ছাড়া কোনও উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা যায় না। আগে আলোচনায় বসে বখরা দিতে হয়, তারপরই কাজের অনুমতি মেলে। সম্ভবত, গোপালবাবুর কাছ থেকে বখরা আদায়ের জন্যই আলোচনায় বসতে বলা হচ্ছে। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা। উন্নয়নের সঙ্গে কোনও আপস করতে রাজি নন তিনি।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, এই রাস্তাটি মাদারিহাট ও হান্টাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। অথচ তুলসীপাড়া এলাকাটি লঙ্কাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ছে। এই রাস্তার সঙ্গে ওই এলাকার কোনও সম্পর্ক নেই। তবুও ডনের ভাইয়েরা এসে এই সমস্ত এলাকায় দাদাগিরি চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই রাজ্য সড়কটির এতটাই বেহাল দশা যে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেই যাতায়াত করা কঠিন। অথচ অত্যন্ত ব্যস্ত এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশো ট্রাক বালি-পাথর বোঝাই করে বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। মাদারিহাটের সঙ্গে টোটোপাড়া ছাড়াও হান্টাপাড়া, বল্লালগুড়ি, ধুমচিপাড়া, মুজনাই ও গ্যারগান্ডা চা বাগানের এই বিশাল এলাকার জনগণের একমাত্র যোগাযোগের রাস্তা এই রাজ্য সড়কটি। বর্তমানে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে গোটা রাস্তা। অথচ সরকারিভাবে কাজের অনুমোদন পেলেও ভাইদের অনুমতি ছাড়া কাজ করতে পারছেন না ঠিকাদার। আসলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিতে কিছুই যায় আসে না ভাইদের। তারা শুধু টাকা চেনে।