কোচবিহারে পড়ে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার রোলার

338

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি খোলা আকাশের নীচে পড়ে নষ্ট হচ্ছে কোচবিহারে। দীর্ঘদিন ধরে কোচবিহার পূর্ত দপ্তরে পড়ে রয়েছে ১৫টি রোলার। এই রোলারগুলো এখন আর ব্যবহার করে না কোচবিহার পূর্ত দপ্তর ও পূর্ত দপ্তর (সড়ক)। কাজে না লাগানোয় রোলারগুলো নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বছরখানেক আগে। সেই মোতাবেক সার্ভেও করা হয়েছিল। ব্যাস, ওই পর্যন্তই। তারপর সেই কাজ আর এগোয়নি। লাল ফিতের ফাঁসে আটকে গিয়েছে সেই ফাইল। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি রোলারগুলো কেন ব্যবহার না করে ফেলে রেখে নষ্ট করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে।

কোচবিহার পূর্ত দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার নিমাই পাল বলেন, রোলারগুলো এখন আর ব্যবহার করা হয় না। গোটা রাজ্যে এই ধরনের যত রোলার পড়ে রয়েছে, তার সার্ভে করেছে পূর্ত দপ্তরের মেকানিক্যাল বিভাগ। তাঁরা এই রোলারগুলো নিলামের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান নিমাইবাবু। পূর্ত দপ্তর (সড়ক)-এর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতির্ময় মজুমদার বলেন, আমাদের কিছু রোলার রয়েছে। য়েগুলো এখন আর কাজে লাগে না। প্রায় একবছর আগে সার্ভে হয়েছে। কিন্তু নিলামের অর্ডার এখনও আসেনি। তাই নিলাম হচ্ছে না। রোলারগুলো নিয়ে কী করা যায়, তা দেখা হচ্ছে বলে জ্যোতির্ময়বাবু জানান।

- Advertisement -

পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার শহরের মদনমোহনবাড়ি সংলগ্ন পূর্ত দপ্তরে ঢোকার মুখে প্রায় কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি রোলার পড়ে রয়েছে। খোলা আকাশের নীচে দিনের পর দিন থাকতে থাকতে রোলারগুলো আজ আর কাজের অবস্থায় নেই। বর্তমানে একটি রোলারের বাজারদাম প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা। সেই হিসেবে ১৫টি রোলারের দাম কোটি টাকার বেশি। দুটি দপ্তরই একটা সময় তাদের কাজের জন্য রোলারগুলো ব্যবহার করত। এর জন্যই সরকারি টাকায় ওগুলো কেনা হয়েছিল। কিন্তু এখন কাজের ধরন বদলে গিয়েছে। বর্তমানে যে এজেন্সি কাজ পায় তারাই তাদের রোলার নিয়ে আসে। তাই পূর্ত দপ্তরের রোলার আর ব্যবহার হয় না। ব্যবহার না হলেও রোলারের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কিন্তু পূর্ত দপ্তরকেই বহন করতে হয়। অবশ্য খাজনার থেকে বাজনা বেশি হওয়ায় বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ থেকে হাত তুলে নিয়েছে পূর্ত দপ্তর। ফলে রোলারগুলো আরও অকেজো হয়ে পড়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, যদি রোলারগুলোকে ব্যবহারই না করা হয়, তাহলে কেন ফেলে রেখে সেগুলি নষ্ট করা হচ্ছে। নিলামের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার পরেও কেন তা একবছর ধরে আটকে রয়েছে। এরপর নিলামে উঠলেও এত বছর পড়ে থেকে রোলারগুলোর যা অবস্থা হয়েছে, তাতে কতটা দাম পাওয়া যাবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে পূর্ত দপ্তরের একাংশ।