হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি, শীতলকুচির ঘটনার প্রতিবাদে বর্ধমানে রোড শো মমতার

89

বর্ধমান: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার ঠিক আগের দিন রবিবাসরীয় বিকালে বর্ধমানে রোড শো করেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রচুর সংখ্যক দলীয় কর্মী ও সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে তিনি হুইল চেয়ারে বসে মোমবাতি হাতে নিয়েই রোড শো করলেন। বর্ধমানবাসীর জনসমর্থন যে তাঁর দিকেই রয়েছে, তা স্পষ্ট করেই এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো মোদী ব্রিগেডের প্রতি কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও তৃণমূল নেত্রীর রোড শো’কে তেমন গুরুত্ব দিতে চাইছেন না বর্ধমানের বিজেপি নেতৃত্ব। এপ্রসঙ্গে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল রায়ের বক্তব্য, ‘মোদীজীর সভায় যে জনসমাগম হবে তা দেখে বর্ধমানের দুই আসনের তৃণমূল প্রার্থী ও নেতাদের চোখ কপালে উঠে যাবে।’

বর্ধমানের পুলিশ লাইন বাজার থেকে শুরু হয় এদিনের রোড শো। শেষ হয় বর্ধমান স্টেশনে। মূলত বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী খোকন দাসের সমর্থনে এদিন রোড শো করেন মমতা।এদিনের রোড শো’য়ে পা মেলায় বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী খোকন দাস, বর্ধমান উত্তরের প্রার্থী নিশীথ মালিক, জামালপুরের প্রার্থী অলোক মাঝি, গলসির প্রার্থী নেপাল ঘরুই, রায়নার প্রার্থী শম্পা ধাড়া, খণ্ডঘোষের প্রার্থী নবীনচন্দ্র বাগ। এছাড়াও ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা পূর্বস্থলী দক্ষিনের তৃণমূল প্রার্থী স্বপন দেবনাথ, কাটোয়ার প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্য জেলা নেতৃত্বরা।

- Advertisement -

তৃণমূল নেত্রীর রোড শো জনপ্লাবনের চেহারা নেয়। তার জেরে এদিন দুপুরের পর থেকেই জিটি রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে। ফলে শহর তো বটেই, শহরের বাইরের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অন্য সব রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারই মধ্যে তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য এদিন জিটি রোডের দুই ধারে বহু মানুষজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। এদিন মমতার রোড শো’য়ের প্রথম সারিতে ছিল মহিলা ঢাকি, ব্যাণ্ডপার্টি, আদিবাসী নৃত্য। শীতলকুচিতে গুলিকাণ্ডে চার জনের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোমবাতি হাতে নিয়ে রোড শো-তে অংশ নেন বলে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন।