মালদায় নিয়ন্ত্রিত বাজার চত্বরের রাস্তায় মরণফাঁদ

- Advertisement -

কল্লোল মজুমদার, মালদা : একটা সময় মালদা শহরের উপকণ্ঠে তৈরি হওয়া নিয়ন্ত্রিত বাজার ঘিরে অনেক স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন ছোট ব্যবসায়ীরা। বাম আমলে গড়ে উঠেছিল পরিকাঠামো। কিন্তু আজও সেই বাজারের দোকানঘর যেমন পুরোপুরি চালু হয়নি, তেমনই ক্রমশ বেহাল হয়ে পড়ছে পরিকাঠামো। বাজার চত্বরের রাস্তার অধিকাংশই এখনও পাকা হয়নি। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে রাস্তা জুড়ে। যেখানে সেখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেই গর্তে বৃষ্টির জল জমে প্রায়শই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। বুধবার সকালে গিয়ে দেখা গেল ওই মরণফাঁদে পড়ে আটকে গিয়েছে পণ্যবাহী একটি লরি। যার ফলে বাজারে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে পুরোপুরিভাবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, এই ঘটনা নিত্যদিনের। আগামীতে এই বাজারের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।

এই বাজারের ফল ও সবজি বিক্রেতাদের সংগঠনের নেতা রাজকুমার প্রসাদ বলেন, আমরা এই বাজারে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেছি। কারণ, বাজারে প্রবেশের দুটি পথ। যে পথ দুটির অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। একটি রাস্তা দিয়ে কোনওরকমে বাজারে ঢোকা যাচ্ছে। ওই রাস্তায় কোনও পণ্যবাহী লরি ঢুকে গেলে তা যতক্ষণ না পর্যন্ত খালি হচ্ছে, ততক্ষণ অন্য লরি ঢুকতে পারে না। লরি ঢুকে গেলে যাতায়াতের তীব্র সমস্যা তৈরি হয়। তার ওপর বেহাল রাস্তায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। যে গর্তে জল জমে তৈরি হয়েছে মরণফাঁদ। সেই মরণফাঁদে পড়ে প্রতিদিনই কেউ না কেউ আহত হচ্ছেন। এছাড়াও চারিদিকে আবর্জনায় ভর্তি হয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের এক প্রতিনিধিদল জেলা শাসকের সঙ্গে দেখা করেছেন। জেলা শাসক জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রিত বাজারের রাস্তা সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর টেন্ডার খোলা হবে। তারপর কাজ শুরু হবে। আমরা ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। প্রয়োজনে আমরা এই বাজারে ব্যবসা বন্ধ করে দেব। কোনওভাবেই এই পরিবেশে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।

মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের জেলা সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, একথা সত্যি যে ইংরেজবাজার নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির চত্বরে কোনও পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। রাস্তাও চলাচলের অয়োগ্য হয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে ক্ষোভ রয়েছেন ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা। কিছুদিন আগে ব্যবসায়ীরা পথ অবরোধ করে বাজার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। আমরা খবর পেয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। নিয়ন্ত্রিত বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে জেলা শাসকের সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা দাবি করেছি, বাজার চত্বরের রাস্তা সহ অন্য পরিকাঠামো অবিলম্বে গড়ে তুলতে হবে। জেলা শাসক আমাদের জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ওই রাস্তা তৈরি করার জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর টেন্ডার খোলা হবে। ৭ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু হবে। জেলা শাসকের আশ্বাস শোনার পর আমরা ওই বাজারের ব্যবসায়ীদের আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলেছি। ৭ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শুরু না হলে আমরা আন্দোলনের পথে নামব। ইংরেজবাজার নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির সম্পাদক অনুপম মৈত্র বলেন, এই রাস্তার কাজের টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

অন্যদিকে, বুধবার নিয়ন্ত্রিত বাজার চত্বরে গিয়ে দেখা যায় একটি প্রবেশ পথের গর্তে পড়ে রয়েছে দশ চাকার একটি পণ্যবাহী লরি। যার ফলে পুরো রাস্তাটি আটকে গিয়ে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাজারে আসা এক ক্রেতা শমিক চৌধুরী জানান, এই সমস্যা আজকের নয়, প্রতিদিনের। নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ট্যাক্স নিচ্ছে। অথচ রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে না। যা অত্যন্ত অমানবিক। এই বেহাল দশার জন্য শুধু বিক্রেতারাই নন, আমার মতো ক্রেতারাও চরম সমস্যায় পড়ছেন। প্রতিদিনই ওই রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া মারণফাঁদে সাইকেল বা বাইক নিয়ে পড়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। প্রশাসনের উচিত, মালদা শহরের সবচাইতে বড় পাইকারি বাজারের পরিকাঠামো গড়ে তোলা। যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা সমস্যার মধ্যে না পড়েন।

- Advertisement -