খবরের জেরে চলছে রাস্তার কাজ, খুশি নন এলাকার মানুষ

176

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: বর্ষা শুরু হতেই জল কাদায় বেহাল হয়ে পড়েছে ফালাকাটার শিশাগোড়ের ব্যাংক রোড। গত ২৩ মে স্থানীয় বাসিন্দারা এই বেহাল রাস্তায় ধানের গাছ লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান। খবরের জেরে সোমবার এই রাস্তায় দু’ট্রাক বালি, বজরি ফেলা হয়। তবে এতে খুশি নন এলাকার মানুষ। তাঁদের দাবি, পুরোদমে বর্ষা শুরু হলে এই দু’গাড়ি বালি, বজরি দিয়ে জল, কাদা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। ফের পাকা রাস্তার দাবিতে সোচ্চার হন বাসিন্দারা। তবে ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি বুথেই দু’ট্রাক করে বালি-বজরি ফেলা হচ্ছে।

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের শিশাগোড় বাস স্টপেজের সঙ্গে ওই ব্যাংক রোডের সংযোগ রয়েছে। বাস স্টপেজ থেকে দক্ষিন দিকে রাস্তাটি কোচবিহার জেলার লাফাবাড়ি গ্রামে চলে গিয়েছে। এই রাস্তার পাশে রয়েছে একটি প্রাইমারি স্কুল ও স্টেট ব্যাংকের কালীপুর শাখা। রাস্তার দু’পাশেই রয়েছে ঘন জনবসতি। শিশাগোড়ে এই রাস্তার পাশে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। আবার এই রাস্তা দিয়েই ফালাকাটার পাশাপাশি কোচবিহার জেলার কৃষকরা ফালাকাটার কিষান মান্ডিতে পণ্য নিয়ে যান। অথচ দুই কিলোমিটার লম্বা ব্যাংক রোডটি এখনও পাকা করা হয়নি।

- Advertisement -

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও রাস্তাটি পাকা করা হচ্ছে না। প্রতি বর্ষায় সামান্য বালি-বজরি ফেলে রাস্তা সংস্কার করা হয়। এবারও বৃষ্টি শুরু হতেই গত মে মাসে জল কাদায় বেহাল হয়ে পড়ে গোটা রাস্তা। এজন্য ধানের গাছ লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দাদের একাংশ। পরে তাঁরা রাস্তা পাকার দাবি লিখিতভাবে ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসনকে জানান। এদিকে গত ক’দিন থেকেই বৃষ্টি চলছে। রাস্তাটি ফের জল কাদায় বেহাল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে এই রাস্তায় দুই ট্রাক বালি-বজরি ফেলা হয়। তবে বাসিন্দাদের দাবি, এই বালি-বজরিতে কিছুই হবে না।

স্থানীয় ভবেশ বালো বলেন, ‘প্রতি বছরের মত এবারও কিছু বালি-বজরি ফেলা হল। এতে সমস্যার সমাধান হবে না। পুরোদমে বর্ষা শুরু হলে এই বালি-বজরি ধুয়ে সাফ হয়ে যাবে। প্রশাসনের কাছে আমরা পাকা রাস্তার দাবি জানিয়েছি।’ এদিকে দুই গাড়ি বালি-বজরি পৌঁছাতেই স্থানীয় শ্রমিকরা তা বেহাল রাস্তায় বিছানো শুরু করেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুশীল সরকার বলেন, ‘আপাতত দুই গাড়ি বালি,বজরি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে বরাদ্দ করেছে। পাকা রাস্তার দাবি জেলা পরিষদ ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাছে পাঠানো রয়েছে।’ ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান চঞ্চল অধিকারি বলেন, ‘এটা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিল থেকে করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথেই জল কাদা জমে এরকম রাস্তার জন্য দু’গাড়ি করে বালি, বজরি ফেলা হচ্ছে।’