শিলান্যাস হলেও অধিকাংশ রাস্তার কাজ শুরু না হওয়ায় তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর

162

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: করোনার আগে ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দু’দফায় ফালাকাটায় উপনির্বাচনের সম্ভাবনার কারণে নানা প্রকল্পের শিলান্যাসের জন্য প্রশাসনকে হুড়োহুড়ি করতে দেখা যায়। প্রকল্পের মধ্যে বেহাল রাস্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তখন গ্রাম পঞ্চায়েত কেন্দ্রিক ৩০-৪০টি করে রাস্তার কাজের সূচনা করা হয়। সম্প্রতি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশে পথশ্রী কর্মসূচির আওতায় ফালাকাটায় ধারাবাহিকভাবে আরও বেশকিছু রাস্তার শিলান্যাস হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, অধিকাংশ রাস্তার কাজ এখনও সেভাবে শুরুই হয়নি। ভাঙাচোরা রাস্তায় বইছে ধুলোবালি। এই বেহাল রাস্তায় পুজো কাটবে বাসিন্দাদের। আর এই নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, লোক দেখানো ও তৃণমূল নেতাদের কাটমানির জন্যই এইসব রাস্তার শিলান্যাস হয়। বিজেপি উন্নয়ন চায় না বলে পালটা দাবি করেছেন তৃণমূল নেতারা।

ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার অবশ্য বলেন, ‘এই ব্লকে সবমিলে ১৮৩টি রাস্তার কাজ হবে। পথশ্রীর আওতায় রয়েছে ১৪টি রাস্তা৷ কিছু রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। বাকি কাজ পুজোর পর শুরু হবে। আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই সব কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

- Advertisement -

উল্লেখ্য, বিধায়ক অনিল অধিকারি না থাকায় এক সময় ফালাকাটার উন্নয়ন থমকে গিয়েছিল। এজন্য রাজ্যের নির্দেশে জেলা প্রশাসন ফালাকাটার দিকে বাড়তি নজর দেয়। এক্ষেত্রে প্রশাসনের কাছে বেহাল রাস্তা বেশি গুরুত্ব পায়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ফালাকাটার সুভাষপল্লী থেকে কুঞ্জনগর, ময়রাডাঙ্গা হয়ে নয় মাইল পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বেহাল রাস্তাটি বাংলার গ্রাম সড়ক যোজনায় তৈরির জন্য শিলান্যাস করা হয়। তবে এই রাস্তার কাজ এখনও সেভাবে শুরু হয়নি বলে অভিযোগ। এজন্য এলাকার তৃণমূল নেতাদেরকে বাসিন্দাদের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে খবর। গত এক-দেড় মাস আগে ফালাকাটা-২, পারঙ্গেরপার, পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ঘটা করে বহু রাস্তার কাজের শিলান্যাস করেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুজোর মুখে পথশ্রী কর্মসূচির আওতায় ফালাকাটার প্রায় সব গ্রাম পঞ্চায়েতেই নতুন রাস্তার শিলান্যাস করা হয়৷ এই কাজগুলি জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও একশোদিনের প্রকল্পে হবে। টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডারও হয়েছে। কিন্তু পুজোর আগে কোনও রাস্তার কাজই শেষ হয়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় এখন বেহাল রাস্তায় ধুলো বইছে। আবার বৃষ্টি হলে জল কাদার সমস্যা দেখা দেয়৷ রাস্তার এই ভোগান্তি নিয়েই বাসিন্দাদের পুজো কাটাতে হবে। তাই এই নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভও ছড়িয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রশাসন ও শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন বলেন, ‘লোক দেখানো শিলা পোঁতা হয়েছে। তৃণমূলের নেতাদের কাটমানির জন্য কোনও কাজই ঠিকমতো হবে না। তাই ভোগান্তি নিয়েই হাজার হাজার মানুষের পুজো কাটবে।’ অন্যদিকে, তৃণমূলের ফালাকাটা ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় পালটা বলেন, ‘বিজেপি উন্নয়ন চায় না। উন্নয়নের বাতাবরণে বিজেপির জনসমর্থন কমে যাওয়ায় এসব বলা হচ্ছে। ফালাকাটায় এত রাস্তার কাজ একসঙ্গে আগে কখনও হয়নি। আমাদের তরফে এলাকার মানুষকে কাজ বুঝে নিতে বলা হচ্ছে। এখানে কাটমানির কোনও গল্প নেই।’