প্রার্থী বদলের দাবিতে পথ অবরোধ, ‘খেলা হবে’ হুংকার তৃণমূলের একাংশ কর্মী-সমর্থকদের

137

হেমতাবাদ: রায়গঞ্জের পর এবার হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুর চড়ল দলের অন্দরেই। তৃণমূল প্রার্থী সত্যজিৎ বর্মনকে তোলাবাজ ও মদ্যপ আখ্যা দিয়ে রামপুরে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন দলের একাংশ কর্মী-সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ, পিকের কর্মীরা বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে তাঁকে প্রার্থী করেছে। সেক্ষেত্রে প্রার্থী বদলের দাবিতে সুর চড়তে থাকে। দলীয় কর্মীদের বক্তব্য, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে এমন একজনকে প্রার্থী করতে হবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে। নচেৎ ভোটের প্রচার থেকে শুরু করে দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

তৃণমূল কর্মীরা জানান, হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদল না করা হলে খেলা হবে। ১২টি অঞ্চলে সত্যজিৎ বাবুর বিরুদ্ধে খেলা হবে স্লোগান তুলে মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট নামাবে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।তৃণমূলের জেলার সহ-সভাপতি তথা রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দিদিকে বার্তা দিতে চাইছি এপ্রিলের ২২ তারিখে ভোট, অনেক সময় রয়েছে দিদি ভেরিফিকেশন করে প্রার্থী বদল করুন। নচেৎ খেলা হবে। যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তাকেই আমরা প্রার্থী হিসেবে চাই। তাঁর কথায়, দলের সমস্ত কর্মীরা দিনরাত এক করে দলের স্বার্থে কাজ করে চলেছেন। যাকে প্রার্থী করা হয়েছে ২০১৬ সালের সভা নির্বাচনে সিপিএম ও কংগ্রেসের হয়ে বিজয় মিছিল করেছিলেন। তৃণমূলে যোগ দিলেও তিনি কোন সমাজসেবা কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে মদ খেয়ে এক মহিলার সঙ্গে নাচের ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল প্রার্থী সত্যজিৎ ওই মহিলা গায়িকার সঙ্গে অশালীন আচরণ করছেন।

- Advertisement -

হেমতাবাদের তৃণমূলের প্রার্থী সত্যজিৎ বর্মন বলেন, ‘কারা বিক্ষোভ করছে আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি দলে থেকে বিক্ষোভ দেখায় সেবিষয়টি জানাব রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রীকে। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার রাজ্য নেতৃত্ব নেবে।’

তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগারওয়াল বলেন, ‘উত্তর দিনাজপুর জেলার দু-তিনটি বিধানসভা এলাকায় দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চললেও প্রার্থী ঘোষণার পর আর তা থাকার কথা নয়। কারণ জেলা সাংগঠনিক দিক থেকে যথেষ্ট মজবুত। জেলার নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রেই জয়ের ক্ষেত্রে তিনি চরমভাবে নিশ্চিত।’