কাশ্মীরের পথে রোহিঙ্গারা, করিডর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন

218

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে রোহিঙ্গা গ্রেপ্তারের ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল জিআরপি। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে চোরাপথে ভারতে প্রবেশ করে নিউ জলপাইগুড়ি হয়ে কাশ্মীরে ঘাঁটি গাড়ছে রোহিঙ্গারা। ইতিমধ্যে শয়েশয়ে রোহিঙ্গা জম্মু এবং কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। তারাই বিভিন্নভাবে এজেন্টদের সহযোগিতায় নিজের আত্মীয়দের শরণার্থী শিবির থেকে ভারতে প্রবেশ করাচ্ছে। লকডাউনের সময় থেকে আরও সক্রিয় হয়েছে এই চক্র।

গত নভেম্বর মাস থেকে এখনও পর্যন্ত নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে প্রায় ৩০ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে আরপিএফ এবং জিআরপি। এদের প্রত্যেকের সঙ্গেই একজন করে এজেন্ট গ্রেপ্তার হয়েছে। সম্প্রতি এনজেপি থেকে যে দুজন রোহিঙ্গা যুবতী গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের সঙ্গেও একজন এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মূলত স্কুল এবং কলেজের ছাত্রদেরই এজেন্ট হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে। ফেসবুকের মাধ্যমে ছাত্রদের খোঁজ করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের নজরে রেখে বন্ধুত্ব বাড়িয়ে এজেন্টের কাজ করানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিলিগুড়ি জিআরপির এক আধিকারিক বলেন, অভিযুক্ত এজেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে পুরো বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন। অভিযুক্তকে আপাতত জেল হেপাজতে পাঠিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের বিচারক।

- Advertisement -

ধৃত দুই রোহিঙ্গা মহিলার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত যুবকের নাম জাহিরুল ইসলাম। অভিযুক্ত অসমের রতাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। রতাবাড়ি এলাকায় একটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অভিযুক্ত। বাড়িতে বাবা, মা ছাড়াও দুই বোন এবং দুই ভাই রয়েছে। এক ভাই মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে বলে অভিযুক্ত জেরায় জানিয়েছে। মাত্র আট হাজার টাকার জন্য অভিযুক্ত ওই দুই যুবতীকে শিয়ালদহ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দাযিত্ব নিয়েছিল। সেখানে তার এক ফেসবুক বন্ধুর হাতে যুবতীদের হস্তান্তর করে সে ফিরে আসত। এই কাজের জন্যে ফেসবুক বন্ধু আগাম তার অ্যাকাউন্টে ৪,৫০০ টাকা দিয়েছিল। বাকি টাকা নগদে শিয়ালদহতে দেওয়ার কথা ছিল। শিয়ালদহ থেকে ওই যুবতীদের হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়া হত। কিন্তু হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে যুবতীদের কী করা হত, তা অভিযুক্ত জানে না বলে পুলিশকে বয়ান দিয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশের কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বদরপুর জংশন হয়ে ট্রেনে জম্মু ও কাশ্মীর যাওয়া ১৭০ জন রোহিঙ্গাকে সেখানকার প্রশাসন আটক করেছে। তাদের মধ্যে ২০ জন কোভিড সংক্রামিত হয়েছে। বাকিরা কাশ্মীরের কোথায় লুকিয়ে রয়েছে তার খোঁজ শুরু করেছে জম্মু প্রশাসন। যে পথে রোহিঙ্গারা ভারতে আসছে, সেই পথে নজরদারির দাবি উঠেছে।