গবেষণার জন্য আমেরিকায় পাড়ি মালবাজারের রোজলিনের

1780

বিদেশ বসু, মালবাজার : মানবদেহে ক্ল্যামিডিয়া ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ বেশ কিছু বিপদ ডেকে আনে। ব্যাকটিরিয়াজাত এই সংক্রমণের বিষয়ে অনেক কিছু জানা গেলেও আরও অনেক কিছুই জানার বাকি। মালবাজারের বাসিন্দা রোজলিন এক্কা এবারে এ নিয়ে গবেষণা করে তা গোটা দুনিয়াকে জানাবেন। জুনিয়ার সায়েটিস্ট হিসাবে ক্ল্যামিডিয়া ব্যাকটিরিয়ার বিষয়ে গবেষণার জন্য রোজলিনকে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিনের তরফে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রোজলিন সেই আমন্ত্রণ গ্রহণও করেছেন। মালবাজারের মতো ছোট এক শহর থেকে সুদূর মার্কিন মুলুকে গবেষণার সুযোগ পাওয়ায় আনন্দে ভাসছেন সকলে। সিজার স্কুলের প্রিন্সিপাল দিলীপ সরকার বলেন, আমাদের স্কুলের এই প্রাক্তনীর এই সাফল্যে আমরা খুবই গর্বিত। চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণায় ও নিশ্চিতভাবে আরও সফল হবে। মাল মহকুমার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ তারক বর্মন বলেন, যৌন সংসর্গের মাধ্যমে ক্ল্যামিডিয়ার সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন। মালবাজারের কৃতী ছাত্রীটি এ বিষয়ে অগ্রসর হওয়ায় চিকি‌ৎসা বিজ্ঞানের অনেকটাই উপকার হবে। রোজলিন বলছেন, মানুষের সেবায় আমি চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে বহু গবেষণা করতে চাই। গবেষণা শেষে বিদেশবিভুঁইয়ে ঠাঁই নেওয়া নয়, তাঁর দেশে ফিরে আসার ষোলোআনা ইচ্ছে রয়েছে বলে রোজলিন জানান।

মালবাজার শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এক্কা পরিবারের বসবাস।  শহরের পাশের নিউ গ্লেনকো চা বাগানের শ্রমিক পরিবার থেকে উঠে আসা রোজলিনের বাবা ইমানুয়েল এক্কা ডামডিম যোগেন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। মা মেরি গ্রেগোরি এক্কা গৃহবধূ। রোজলিনের ভাই কলকাতায় পড়াশোনার পর স্কটিশচার্চ কলেজিয়েট স্কুলে ওয়েস্টার্ন মিউজিকের শিক্ষক। বোন এঞ্জেলিন গ্রেস জিওলজি নিয়ে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করছেন। রোজলিন উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মালবাজারের সিজার স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। এরপর ভুবনেশ্বরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ  সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর হন। স্নাতকস্তর থেকেই বরাবর স্কলারশিপ পেয়ে এসেছেন। এই মেধাবী তরুণী পরবর্তীতে দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজিতে গবেষণা করেন। গবেষণার বিষয় ছিল হিউম্যান ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট। তাঁর ওই গবেষণা উচ্চ প্রশংসিত হয়।

- Advertisement -

গত বছরের মার্চে তিনি ডক্টরেট হন। ইতিমধ্যে বহু জায়গায় তাঁর নানা গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশিত হয়েছে। রোজলিন অবশ্য এখানেই থেমে থাকতে চান না। তাই এবারে তিনি মার্কিন মুলুকে উড়ে যাচ্ছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরভিন ক্যাম্পাসে ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেল বায়োলজি ডিপার্টমেন্টে তিনি গবেষণা করবেন। গত মার্চেই রোজলিনের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের দাপটের জেরে সেবারে তা সম্ভব হয়নি। এবারে ৩ অক্টোবর রোজলিন আমেরিকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।  বড় মেয়ের এহেন সাফল্যে বাবা-মা দারুণ খুশি। বাবা ইমানুয়েলের কথায়, জীবনে এগিয়ে যেতে আমরা মেয়েকে সবসময়ই উৎসাহ দিয়েছি। ও আরও এগিয়ে যাওয়ায় আমরা গর্বিত। মা গ্রেগোরির কথায়, রোজলিন ছোটবেলা থেকেই শুধু পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। এই পড়াশোনার সুবাদে ও মানবসেবার কাজে অগ্রসর হওয়ায় আমরা খুব খুশি।