অন্য দুর্গা দক্ষিণ ধূপঝোরার রকেয়া খাতুন

368

রহিদুল ইসলাম, চালসা: ঘর কন্যার যাবতীয় দায়িত্ব সামলে পাটজাত শৌখিন জিনিস তৈরি করে শুধু নিজেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেননি, প্রত্যন্ত বনবস্তির আরও ২৬ জন গৃহবধূকে রোজগারের পথ খুঁজে দিয়েছেন। মেটেলি ব্লকের দক্ষিণ ধূপঝোরা বনবস্তির ৩৫ বছরের মহিলা রকেয়া বিবি যেন অন্য দুর্গা।

তাঁর পথ চলা ছিল হাজারো প্রতিকূলতায় ভরা। বাড়িতে ৩ ছেলে নিয়ে। তাঁদের সংসারের পরিস্থিতি দিন আনি দিন খাইয়ের মতো। স্বামী চা বাগানের অস্থায়ী শ্রমিক। বছরের ছয় মাসই কাজ জোটে না। এমন পরিস্থিতিতে সাত বছর আগে বন দপ্তরের ধূপঝোরা বিট অফিসের উদ্যোগে পরিচালিত পাপোশ তৈরির প্রশিক্ষণে তিনি অংশ নেন। এরপরই আর থেমে থাকেননি তিনি। এক ব্যবসায়ীর আর্থিক সাহায্যে কিছু যন্ত্রপাতি কিনে বাড়িতেই শুরু করে দেন কাজ। প্রথমে তাঁর সঙ্গে ছিল এলাকার দু’জন মহিলা। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ২৬ জন হয়েছে। মাস গেলে তাঁরাও এখন রোজগার করছেন প্রায় দু’হাজার টাকা।

- Advertisement -

অন্য দুর্গা দক্ষিণ ধূপঝোরার রকেয়া খাতুন| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

এলাকার রিসর্টে গিয়ে তাঁদের হাতে তৈরি সামগ্রী বিক্রি করেন। ডুয়ার্সে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকে বাড়িতে এসেও কিনে নিয়ে যান পাপোস সহ তাঁদের তৈরি ঘর সাজানোর নানা জিনিস। তবে ব্যবসার পরিধি বাড়ায় দরকার আরও যন্ত্রপাতি, জিনিসপত্র। তিনি বলেন, ‘সরকারি সাহায্য পেলে আরও অনেক কিছু করতে পারতাম। এখন মাত্র চারটি মেশিন রয়েছে। দরকার আরও। এলাকার বহু মহিলা কাজ চান। সেক্ষেত্রে সবাইকেই শামিল করা যেত।’ বেবিনা বানু, সন্ধ্যা রায়, সায়ন্তী ওরাওঁ, প্রতিমা রায়ের মতো স্বনির্ভরতার দিশা খুঁজে পাওয়া মহিলারা বলেন, ‘উনিই আমাদের কাছে দেবী দুর্গা। পাশে না থাকলে আমাদের সংসার কবেই ভেসে যেত। আগে শুধু দিনভর সংসারের কাজ করতাম। এখন সংসারের কাজ করে এই কাজের জন্য সময় বের করি।’