স্কুল ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ মেরামতির চেষ্টা, বিক্ষোভ বাসিন্দাদের

351

জামালদহ : কোচবিহারের জামালদহে স্কুলের নতুন ভবন তৈরির সময় ধসে পড়ল ছাদ। ঢালাইয়ের পরই ছাদ ধসে গিয়েছে বলে অভিযোগ। স্কুলের তরফে কাজ বন্ধ রাখতে বললেও নির্মাণকারী সংস্থা কাজ চালিয়ে যাওয়ায় উত্তেজনা ছড়ায়। রবিবার সকালে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। নির্মাণকাজে যুক্ত ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতি অভিযোগ এনেছেন জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান।

কিছুদিন ধরেই জামালদহ তুলসীদেবী উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের কাজ চলছে। ৫৪ লক্ষ টাকা খরচ করে ছয়টি শ্রেণীকক্ষের ওই স্কুল ভবন তৈরি হচ্ছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় ওই দ্বিতল ভবনের ছাদ ঢালাই করা হয়। ওইদিন রাতেই প্রবল বৃষ্টি হয়। ঢালাইয়ের পর ছাদ ঢাকার ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে বৃষ্টিতে কাঁচা ছাদ জমাট বাঁধার আগেই ধুয়ে-ধসে যায় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থা কোনও কর্ণপাত করেনি। উলটে তড়িঘড়ি ওই দ্বিতল ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদের উপর সিমেন্টের প্রলেপ লাগিয়ে ‘মেরামত’ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই  স্কুলের অভিভাবক সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের তরফে সুশীল মজুমদার, প্রসূনকুমার ঘোষ প্রমুখ জানান, ওই ছাদের তলায় বসে ছোট ছোট বাচ্চারা বছরের পর বছর ধরে ক্লাস করবে। দরকার হলে পুরো ভবন ভেঙে নতুন করে গড়তে হবে।

- Advertisement -

এই ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ চন্দ জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে ছাদ ঢালাইয়ের পর তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন মৌখিক অভিযোগ করেছে। তাই ঠিকাদারকে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিকাদার। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধানপ্রশান্তকুমার সাহা এ প্রসঙ্গে বলেন,’ কাজে চূড়ান্ত গাফিলতি রয়েছে ঠিকাদারের। স্কুলের ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইছেন তিনি। কিন্তু আমরা কিছুতেই তা হতে দেব না। ধসে পড়া ছাদ তাপ্পি মেরে মেরামত করার চেষ্টা হয়েছে। এর খেসারত ওই ঠিকাদারকেই দিতে হবে। কাজ আপাতত বন্ধ থাকবে।’ ওই কাজের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার আব্দুল সাত্তার অবশ্য দাবি করেছেন, ‘কাজে কোনও গাফিলতি নেই। যা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শেই করা হয়েছে।’  ওই কাজের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার জীবন রায় এ ব্যাপারে বলেন, ‘সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত ২১ দিন পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে। তারপর বিল্ডিং পরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’