ছাদবাগানে চমক জলপাইগুড়ি শহরের তিন গৃহিণীর

49

পূর্ণেন্দু সরকার,জলপাইগুড়ি : তাঁদের গাছের নেশা বহুদিনের। কোথাও বেড়াতে গেলে হোক বা কারও বাড়ি গেলে, কোনও গাছ পছন্দ হলেই নিয়ে আসেন। এছাড়া বন দপ্তরের নার্সারি থেকে কিনে আনা চারাগাছ তো রয়েছে। তাঁরা কেউ বিয়ের পর থেকে, কেউ বা ৩-৫ বছর ধরে বাগান করছেন।

জলপাইগুড়ি শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পান্ডাপাড়া বৌবাজার এলাকার তিন গৃহিণী বাহারি ফুল, চেনা ফলের গাছ থেকে ঘর সাজানোর অর্নামেন্টাল প্ল্যান্ট সহ বিভিন্ন গাছ লাগিয়ে চমকে দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে এক গৃহিণী চাকরি এবং আরেকজন ব্যবসা করেন। এঁরা বাড়ির ছাদে, কেউ বা জায়গার অভাবে রাস্তার ধারে ফুলের বাগান করেছেন। গাছের যত্নে জৈব সার, জৈব কীটনাশক স্প্রে, ভার্মিকম্পোস্ট সার নিজেরাই তৈরি করেছেন। তিনজনের বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ঝাউ গাছ, বাহারি ফুল, ১২ মাস ফল দেয় এমন গাছ, আম গাছ, অ্যালোভেরা, স্নেক প্ল্যান্ট, পাতাবাহারের বিভিন্ন প্রজাতি, লেবু, গোলাপ সহ প্রায় ২৫ প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। তাঁদের কাছে এমন গাছও রয়েছে, যা ঘরের ভেতর অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে বলে এক গৃহিণী জানান।

- Advertisement -

ওই তিন গৃহিণীর মধ্যে মমতা সরকারের স্বামী আবহাওয়া দপ্তরে আধিকারিক পদে কর্মরত। শিপ্রা সরকারের স্বামী সীমা সুরক্ষা বল বাহিনীতে কর্মরত। ঝর্ণা ঘোষ কর্মকার নিজেই রাজ্য সরকারি দপ্তরে চাকরি করেন। ঝর্ণার্দেবীর স্বামী পেশায় একজন ভাস্কর্য শিল্পী। এঁরা সবাই নিজের বাড়িতে বাগান করলেও একে অপরের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করেন। কেউ নতুন কোনও গাছ আনলে অপরকে জানিয়ে দেন। গাছের যত্নে বইয়ের বাইরে নিজেরাই ইউটিউব চ্যানেল থেকে অনেক কিছু জেনে নেন বলে ঝর্ণাদেবী জানান। তাঁর বাড়িতে জায়গা নেই। তাই বাড়ির সামনে রাস্তার ধারে টবে, বাঁশের মাচায় বাগিচা করেছেন। এতে পাড়ার সৌন্দর্যায়ন বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তাঁদের মতে, কাটা সবজি জলে ভিজিয়ে রেখে সেই জল গাছে দিলে ভালো হয়। হাড়ের গুঁড়ো, ভার্মিকম্পোস্ট, গোবর, নিমখোল এবং কেঁচো দিয়ে নিজেরাই তৈরি করেন জৈব সার। তাঁরা রাসায়নিক কোনও কীটনাশক ব্যবহার করেন না। নিম তেল স্প্রে ছাড়াও বিশেষভাবে তৈরি নিজেদের জৈব তরল স্প্রে করে গাছের পোকা দমন করে থাকেন বলে মমতা সরকার জানান।

গাছের যত্নে যথেষ্ট সময় দেন মমতাদেবী। তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক ঘণ্টা এবং বিকেলে ২ ঘণ্টা বাগান দেখাশোনা করেন। শুধু বাগান দেখাশোনা নয়, পোড়ামাটি, সিমেন্ট দিয়ে টব তৈরি করে তাতেও চারা বড় করে তুলছেন মমতাদেবী। আরেক গৃহিণী শিপ্রা সরকার বিউটিসিয়ান। তিনিও বাড়ির ছাদে বিভিন্ন গাছের বাগান করেছেন। পাশাপাশি ছাদে চৌবাচ্চা বানিয়ে মাছ চাষ করা, জলে কচুরিপানা- এসবও রয়েছে, সবই জৈব সারের কাজে আসে বলে শিপ্রাদেবী জানান।

এখন তাঁরা পরিকল্পনা করছেন, একটা জমি দেখে সেখানে কিছুটা সরকারি সাহায্য বা ব্যাংক ঋণ নিয়ে বড় আকারের নার্সারি করবেন। সেই নার্সারি থেকেই চারা বিক্রি করা তো রয়েছে, সেইসঙ্গে আরও অনেক মহিলাকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতেই এমন পরিকল্পনা বলে ঝর্ণাদেবী জানান। তবে ফুল-ফলের গাছ করলে যে মন ভালো থাকে, সে ব্যাপারে তিন গৃহিণীই একমত।

পাড়ার অনেকে তাঁদের বাগানে এসে বিভিন্ন গাছ সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। অনেকে চারাগাছ নিয়ে যাচ্ছেন। তবে অন্য মহিলাদের রোজগারের সুযোগ করে দিতে তাঁরা কত তাড়াতাড়ি নিজস্ব নার্সারি করতে পারবেন, সেই স্বপ্নেই এখন বিভোর মমতা, শিপ্রা ও ঝর্ণারা।