রুটের স্বপ্নের উড়ানে বাস্তবের মাটিতে ভারত

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : শততম টেস্টে স্বপ্নের উড়ান।

জো রুটের যে রঙিন শো বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনল ভারতীয় দলকে। সিরিজের প্রথম দিনেই উধাও অস্ট্রেলিয়ায় মহাকাব্যিক ক্রিকেটে তৈরি স্বপ্নের ঘোর।

- Advertisement -

 

স্পিনটা বরাবরই ভালো খেলেন। ২০১২ সালে অভিষেকের নাগপুর টেস্ট হোক বা গত ভারত সফর, বারেবারে রুট প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সিরিজের প্রথম ইনিংসেই রুট-স্পেশাল। সলতে পাকানোর কাজটা সেরে এসেছিলেন শ্রীলঙ্কাতেই। দুই টেস্টে একটা ডাবল ও একটা সেঞ্চুরি। শুক্রবার সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক।

গুরুত্বপূর্ণ টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে রুট বলেন, পরের দিকে উইকেট ভাঙবে। প্রথম ইনিংসে খেলার সুযোগটা যথাসম্ভব তুলতে চাই। বিরাটও স্বীকার করলেন, তিনিও ব্যাটিং নিতেন। কারণটা আরও সহজবোধ্য, দিনের শেষে ইংল্যান্ডের ২৬৩/৩ স্কোরে। সিবলির ৮৭, বার্নসের ৩৩ আর রুটের ঝলমলে অপরাজিত ১২৮।

ইংলিশ টপঅর্ডারে সিবলি মূলত অ্যাঙ্করের দায়িত্ব সামলান। দুর্ভাগ্য দিনের শেষ বলে আউট হলেন সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তেরো রান আগে। তবে তৃতীয় উইকেটে পাক্কা ২০০ রানের পার্টনারশিপ। প্রায় ৬৪ ওভার ভারতীয় বোলারদের উইকেটহীন রেখে কাজের কাজ সেরে দেন। কেরিয়ারের শততম টেস্টে ২০ নম্বর সেঞ্চুরি রুটের। ভারতের বিরুদ্ধে পঞ্চম। কাল কোথায় থামবেন, তার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করবে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি।

রোরি বার্নসকে আউট করে ওপেনিং জুটি ভাঙেন অশ্বীন। কয়েক বল বাদে ড্যানিয়েল লরেন্স (০) আউট বুমরাহ বলে। ৬৩/০ থেকে ৬৩/২। বলটা একটু পুরোনো হতে রিভার্স সুইং কাজে লাগান বুমরাহ। অশ্বীনও ক্রমশ ছন্দে। কিন্তু সতীর্থদের ব্যর্থতায় চাপটা স্থায়ী হয়নি।  ক্রিজ থেকে সাহায্য নেই। তারপর নাদিম-সুন্দরদের অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ক্রমশ ব্যাকফুটে চলে যাওয়া। ফলস্বরূপ অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রশংসিত বোলিংয়ের ঝাঁঝটা উধাও। ব্রিসবেন-জয়ের নায়ক মহম্মদ সিরাজের অভাবও উপলব্ধি হচ্ছিল।

 

২৬৩/৩। ক্রিজে রুট। অপেক্ষায় পোপ, স্টোকস, বাটলাররা। সাড়ে চারশো রানের বোঝা চাপলে, রক্তচাপ বাড়বে বিরাটদের। কারণ, ইংরেজ স্পিনাররা অনভিজ্ঞ হলেও চিপকে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং সবসময় চ্যালেঞ্জিং। আজ প্রথম দিনের পড়ন্ত বিকেলে অশ্বীনের কয়েকটা বল যেভাবে লাফালো এবং লম্বা টার্ন নিল, তা কিন্তু অশনি সংকেত।