রুট ক্লাসিকে বেলাইন বিরাট ব্রিগেড

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : ইয়র্কশায়ারিদের নাক বরাবরই একটু উঁচু।

সবকিছুতেই খুতখুতানি। ক্রিকেটেও ব্যতিক্রম নয়। একদা জিওফ বয়কট যার মুখ হয়ে উঠেছিলেন। প্রায় নিখুঁত ডিফেন্স, রক্ষণাত্মক ব্যাটিং, ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থাকা। সঙ্গে বয়কটের ইয়র্কশায়ারিসুলভ বাচনভঙ্গি। বয়কটের সুবাদে অন্যভাবে চেনা ইয়র্কশায়ারকে। আজকের পর অবশ্য বযকটের সেই জায়গায় ভাগ বসালেন জোসেফ এডওয়ার্ড রুট।

- Advertisement -

হেলেন ও ম্যাট রুটের পুত্রকে যখন ইযর্কশায়ার সই করায়, অনেকের মুচকি হেসেছিলেন। যদিও স্পটাররা প্রতিভা চিনতে ভুল করেননি। প্রতিভা ও পরিশ্রমের অনবদ্য মিশেল। সাফল্যের সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে আজ কিংবদন্তির পথে রুট। চেন্নাই টেস্টের প্রথম দু-দিনে ইয়র্কশায়ারি রুট-ক্লাসিকেই কার্যত বেলাইন ভারত।

প্রথমদিন ১২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। বলেছিলেন, নিজের ও দলের ইনিংসটাকে আরও লম্বা করবেন। শনিবাসরীয় চিপকেও নিজের সেই চ্যালেঞ্জে লেটার মার্কস সহ উত্তীর্ণ। অন্তিম সেশনে আউট হযে ক্লান্ত শরীরটাকে নিয়ে যখন সাজঘরের দিকে হাঁটা দিচ্ছেন, নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ২১৮! সেঞ্চুরি টেস্টে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্বিশতরানের নজির।

বয়কট মজা করে একদা বলেছিলেন, সানি (গাভাসকার) আর আমি ওপেন করলে কার সাধ্য আমাদের আউট করে। রুটের ইনিংসজুড়ে যেন বয়কটের বলা কথার প্রতিধ্বনি। অশ্বীনই ছিল বিরাটের রুট-বধের সেরা হাতিয়ার। যদি সব অস্ত্র ভোঁতা ইংরেজ অধিনায়কের ধারালো ব্যাটের সামনে। গত দুই টেস্টে ২২৮ ও ১৮৬ করেছিলেন শ্রীলঙ্কায। ভারতের মাটিতে রুটের শিকড় আরও গভীরে, জানান দিলেন ৩৭৭ বলের চিত্তাকর্ষক ইনিংসে।

ক্রমশ লালরঙা চিপকের বাইশ গজে যার ধাক্কায় রক্তক্ষরণ ভারতীয় দল, ভারতীয় বোলিংয়ে। দ্বিতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ড ৫৫৫/৮। অশ্বীন (৫০-৫-১৩২-২), বুমরাহ (৩১-৪-৮১-২), ইশান্ত (২৭-৭-৫২-২), শাহবাজ নাদিম (৪৪-৪-১৬৭-২), ওযাশিংটন (২৬-২-৯৮-০)-দের পরিসংখ্যান রুট-দাপটের একেবারে পারফেক্ট চিত্রায়ন।

ম্যাচে ফিরতে প্রথম সেশন গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভারতের জন্য। যদিও কোনও সুযোগই দেননি রুট-স্টোকস। অ্যাঙ্করের ভূমিকায় রুট। বিগশটে বিগ বেন। উইকেট না হারিয়ে সকালের সেশনে আরও ৯২। এলোমেলো ভরত অরুণ-রবি শাস্ত্রীদের সমস্ত পরিকল্পনা। স্টোকসের একাধিক ক্যাচ (৩১ ও ৩২ রানে) ছেড়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন পূজারা, অশ্বীনরাও।

রুট বোধহয় পণ করেই এসেছিলেন কোনও অস্ত্রেই কাঁবু হবেন না। গতকাল সিবলিকে নিয়ে ২০০ রান যোগ করেছিলেন। আজ স্টোকসকে নিয়ে আরও ১২৪। জোড়া সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে রানের পাহাড় নিশ্চিত করে নেন। নিজেও পেরিয়ে যান একের পর এক মাইলস্টোন। টানা তিন টেস্টে ১৫০ প্লাস রান, অশ্বীনকে ছক্কা হাঁকিয়ে শততম টেস্টে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে দ্বিশতরানের নয়া নজির।

স্টোকস (৮২) একটু ধৈর্য্য দেখালে সেঞ্চুরি নিশ্চিত ছিল। কিন্তু শাহবাজ নাদিমকে অনসাইডে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বসেন। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে যা অনেক কষ্টে ধরেন পূজারা। জাগলিংয়ের ক্যাচে অবশ্য হাতের চেয়ে পায়ের ভূমিকাই বেশি। অনর্থক ডিআরএস নষ্টের মাশুলও গুনতে হল। দিশাহীন বিরাটদের আশা দেখাতে পারে ২০১৬-র চেন্নাই টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ৪৭৭ করেও ম্যাচ হারে ইংল্যান্ড। তবে সেদিনের ম্যাচের নায়ক রবীন্দ্র জাদেজা (দ্বিতীয ইনিংসে ৭ উইকেট)আপাতত মাঠের বাইরে।