সানি সরকার,  শিলিগুড়ি : ডায়ারিয়া নির্মূল করতে রাজ্যে শুরু হয়েছে রোটা ভাইরাস প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালেও বুধবার শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি। কিন্তু কোথায় গেলে মিলবে রোটা ভাইরাসের প্রতিষেধক, কোথায় রয়েছে টিকাকরণ কেন্দ্র, দিনভর চক্কর কেটেও তার হদিস পাওয়া মুশকিল। ঠিকানার সন্ধান দিতে পারেননি স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে রোগী অনুসন্ধান কেন্দ্রের কর্মীরাও। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অনেকেই। কেন সুনির্দিষ্টভাবে দিক নির্দেশ থাকবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতাল সুপার ডাঃ অমিতাভ মণ্ডল বলেন, শুরুতে কিছুটা সমস্যা থাকে। কিছুদিনের মধ্যে এই সমস্যা কেটে যাবে। কোথায় প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত বোর্ড লাগানো হবে। তাছাড়া একটি শিশুও যাতে প্রতিষেধকের বাইরে না থাকে, তার জন্য সমস্ত প্রচেষ্টাই থাকবে।

রোটা ভাইরাসের জেরে কয়েক মাস আগে ডায়ারিয়ার প্রকোপে মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বিহারে। বেশ কয়েকটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। যার প্রভাব পড়েছিল বিহার সংলগ্ন এই রাজ্যের এলাকাগুলিতে। পাশাপাশি, ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হযে প্রতিবছর এই রাজ্যেও শিশুমৃতু্য়র ঘটনাও ঘটে। যা রোধ করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সহযোগিতায় বুধবার থেকে শুরু হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রোটা ভাইরাস প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকায় সরকারিভাবে এদিন শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালেও রোটা ভাইরাস প্রতিষেধক দেওয়ার কথা। সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে, ৬ মাসের শিশুকে প্রতিষেধকের প্রথম ডোজ দিতে হবে। তিনটি ডোজের পরবর্তী ডোজ দেওয়া হবে ১০ মাস এবং ১৪ মাস বয়সে। তিনটি ডোজ দেওয়া হলে প্রতিষেধক নেওয়া শিশুটি ডায়ারিয়ায় আর আক্রান্ত হবে না বলে মনে করছেন চিকিত্সকরা। যা নিযে গত একবছর ধরে পরীক্ষানিরীক্ষা চলেছে। সরকারিভাবে নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের প্রতিষেধক দেওয়ার জন্য প্রচারও চালানো হয়েছে। কিন্তু শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে কোথায় প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে, তা জানতে না পারার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাসপাতাল চত্বরে চক্কর কাটতে হয়েছে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে আসা সবাইকেই। কাউন্সিলারের পরামর্শে এদিন জেলা হাসপাতালে শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন দক্ষিণ শান্তিনগরের শ্যামলী রায়। তিনি বলেন, অনেককেই জিজ্ঞেস করেছি রোটা ভাইরাস ভ্যাকসিন কোথায় পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু কেউ বলতে পারেনি। নার্সদের জিজ্ঞাসা করেও সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানান চম্পাসারির উত্তর পলাশের দেবারতি বসাক, ডাবগ্রামের তমাল সূত্রধর। তাঁদের মতো অনেকেই পুরনিগমের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে প্রতিষেধকটি দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, মাতৃসদন বা হেলথ পোস্টগুলিতে রোটা ভাইরাস প্রতিষেধক দেওয়ার ব্যবস্থা করলে হয়রান হতে হবে না কাউকে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যে সরকারি সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই প্রতিষেধকটি দেওয়ার কাজ শুরু হবে। কোনো শিশুই যাতে প্রতিষেধকটির বাইরে না থাকে, তার জন্য রোটা ভাইরাস সম্পর্কে এবং প্রতিষেধকটি শিশুদের কখন দিতে হবে, তা সন্তান প্রসবের পর মায়েদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ অমিতাভ মণ্ডল।