খাতা রিভিউ পর রাজ্য মেধা তালিকায় স্থান রোজার

678

হরিশ্চন্দ্রপুর: মাত্র দু নম্বরের জন্য তালিকায় ঠাঁই পায়নি রোজা। কিন্তু ইংরেজি ও ইতিহাসে আরও বেশি নম্বর পাওয়ার আশা ছিল তাঁর। তাই ওই দুটি বিষয়ে পর্ষদে রিভিউর আবেদন জানিয়েছিল। বুধবার পর্ষদ সেই ফল প্রকাশ করেছে। ইংরেজি ও ইতিহাস দুটি বিষয়ে ৩ নম্বর করে বেড়ে তাঁর মোট নম্বর দাঁড়িয়েছে ৬৮৭। পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, নম্বর বেড়ে যাওয়ায় মেধা তালিকায় রাজ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে রোজা।

অবশেষে মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় স্থান পেল রোজা পারভিন। হরিশ্চন্দ্রপুরের চন্ডীপুর হাই স্কুল থেকে এবার মাধ্যমিক দিয়েছিল রোজা। কিন্তু ফল বের হওয়ার পর দেখা যায়, ৬৮১ পেয়েছে সে। মাত্র দু নম্বরের জন্য তালিকায় ঠাঁই পায়নি রোজা।

- Advertisement -

এছাড়া মালদহ জেলাতে তাঁর প্রাপ্ত নম্বরই সর্বোচ্চ। রিভিউর পর রোজা মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ায় তাঁর স্কুল তো বটেই, মহকুমা জুড়েই খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। কেননা কোনও শহরের স্কুল নয়, প্রত্যন্ত এলাকার চন্ডীপুর স্কুল থেকে কোনও পড়ুয়া রাজ্যে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া দূরের কথা, জেলাতেও প্রথম হয়নি।

চাঁচল মহকুমায় প্রথম হওয়ায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দলের তরফে নেতারা গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র দু নম্বরের জন্য মেধা তালিকায় স্থান না মেলায় স্কুলের পাশাপাশি তাঁর বাবা, মায়ের মনের মধ্যেও কিছুটা হলেও আফসোস ছিল। কিন্তু রিভিউর ফলাফল সবকিছু দূর করে দিয়েছে। রোজার প্রাপ্ত নম্বর বাংলায় ৯৬, ইংরেজিতে ৯৮, অঙ্কে ৯৯, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৮, জীবনবিজ্ঞানে ৯৮, ইতিহাসে ৯৯ ও ভূগোলে ৯৯।

রোজার বাড়ি চাঁচলের আদর্শপল্লীতে। বাবা আনসার আলি চন্ডীপুর স্কুলেই শিক্ষকতা করেন। মা মাসুমা পারভীন গৃহবধূ। এদিন, বাবা আনসার আলি বলেন, ‘আমরা খুব খুশি। ও স্কুলেরও সুনাম বাড়িয়েছে।’

মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ায় ভীষন খুশি রোজা। সে জানায়, এত কাছে গিয়েও দু নম্বরের জন্য তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় মনটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তবে ইংরেজি আর ইতিহাসে যে কম পেয়েছি সেটা বাবাকে বলেছিলাম। তাই রিভিউ করেছিলাম। সকলের আশীর্বাদ, শুভেচ্ছায় এরপরেও আমি আরও ভালো করার চেষ্টা করব। উচ্চমাধ্যমিকে চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হয়েছে সে।

ভবিষ্যতে এস্ট্রোফিজিক্স নিয়ে পড়াশুনা করতে চায় রোজা। ছোটবেলা থেকেই মহাকাশ নিয়ে তার মাথায় ঘুরপাক খায় নানা ভাবনা। সময় পেলেই দূরবিন নিয়ে আকাশে তাকিয়ে থাকে সে। আগামীতে মহাকাশ বিষয় এ গবেষণা করতে চায় সে।

এদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী বলেন, ‘এই প্রথম স্কুল থেকে কেউ মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। আমরা দারুন খুশি। স্কুল খুললেই ওকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।’